খুশি ১১৫ পরিবার

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগবঞ্চিত হওয়া ১২০ প্রার্থীর মধ্যে ১১৫ জন অবশেষে যোগদানপত্র পেয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস আদেশে প্রথম দফায় তাদেরকে  যোগদানপত্র নেবার নির্দেশনা না দেওয়ায় শনিবার চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। এর একদিন পর রবিবার রাতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটে ১১৫ জনকে যোগদানপত্র নেবার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে বাকি পাঁচজনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায় নি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মচারী অবশ্য বলেছেন, তাদের নিয়ে উর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা হচ্ছে, দুয়েক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

 


রবিবার রাতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস স্বাক্ষরিত যোগদানপত্রে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন রাজস্বখাতভুক্ত সরকারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা—২০২৫—এর ফলাফলের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত ও প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের জাতীয় বেতন স্কেল—২০১৫ অনুযায়ী ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা (গ্রেড—১৩) বেতনক্রমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 


নিয়োগপত্র অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রার্থীদের যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
নিয়োগপত্রে আরও বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে প্রথম দুই বছর শিক্ষানবিশকাল হিসেবে গণ্য হবে। শিক্ষানবিশকালে কোনো ধরনের অসদাচরণ করলে, কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। এ সময় বদলির আবেদনও গ্রহণযোগ্য হবে না। যোগদানের পর সরকার নির্ধারিত দুই মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া চার বছরের মধ্যে মৌলিক প্রশিক্ষণ (বিটিপিটি) সফলভাবে সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
যোগদানের সময় প্রার্থীদের ৩০০ টাকার নন—জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড বা অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। এতে নিজে বা পরিবারের কোনো সদস্য যৌতুক নেবেন বা দেবেন না—এ মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন না করার বিষয়েও অঙ্গীকার করতে হবে। প্রার্থীর দাখিল করা কোনো সনদপত্র বা তথ্য পরবর্তী সময়ে ভুয়া প্রমাণিত হলে নিয়োগ আদেশ বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

 


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওই অফিস আদেশে উল্লেখ করা ১১৫ জনের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৪২ জন, ছাতকের ৩৭ জন, মধ্যনগরের ৪ জন, দোয়ারাবাজারের ৭ জন, জগন্নাথপুরের ৭ জন, শান্তিগঞ্জের ৭ জন, তাহিরপুরের ৬ জন, বিশ্বম্ভরপুরের ৩ জন, ধর্মপাশার ১ জন এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ১ জন রয়েছেন।
দ্বিতীয় দফায় যোগদানের আদেশ পাওয়া সামন্ত কুমার দাস বললেন, গেল রাত ছিল জীবনের সবচেয়ে আনন্দের। পরিবারের সকলে উৎফুল্ল ছিল। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীল কতৃর্পক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 


প্রসঙ্গত, সারাদেশের মতো সুনামগঞ্জেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছরের ২ জানুয়ারি। জেলা সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন কেন্দ্রে এতে অংশ নেন ১৪ হাজার ৪৮৯ জন নিয়োগপ্রত্যাশী। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২ হাজার ১৫৯ জন।

 


পরে ২৮ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২ হাজার ৯৯ জন প্রার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৬৩৭ জন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় ২০ জন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন নি। এরপর উত্তীর্ণ ৬১৭ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
কিন্তু গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে যোগদানপত্র দেওয়ার অফিস আদেশ প্রকাশের পর নতুন করে জটিলতা দেখা দেয়। ওই আদেশ থেকে প্রার্থীরা জানতে পারেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১২০ জন প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন। সর্বশেষ যাচাই—বাছাইয়ে ৬১৭ জনের মধ্যে ১২০ জন যোগদানপত্র পাননি।

 


এ ঘটনায় চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে শনিবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন নিয়োগবঞ্চিতপ্রার্থীরা। তাদের কর্মসূচির পরদিনই রবিবার রাতে ১২০ জনের মধ্যে ১১৫ জনের হাতে নিয়োগপত্র পৌঁছায়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেছেন, বাকী ৫ জনের বিষয়ে দুয়েক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার