প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৪
জামালগঞ্জে টোল আদায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএর টোল আদায় নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে নৌযান শ্রমিক ও ইজারাদাররা। সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তুলে গত রবিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন নৌযান শ্রমিকরা। এর একদিন পর সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইজারাদার জিয়াউর রহমান ও ওয়াহেদ আলী। তাদের দাবি, তারা বৈধভাবে ইজারা নিয়ে সরকারি নিয়ম মেনেই টোল আদায় করছেন।
সোমবার জামালগঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইজারাদাররা বলেন, ২০২৬—২৭ অর্থবছরের জন্য বিআইডব্লিউটিএর কাছ থেকে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার লঞ্চঘাট থেকে মন্নানঘাটের পূর্ব পর্যন্ত উভয় পাড় এবং ফেনারবাঁক ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার বৌলাই নদীর মোহনার উভয় পাড়ে এলসি ও বার্দিং আদায়ের ইজারা তারা পেয়েছেন। সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে রসিদের মাধ্যমে তাঁদের নিয়োজিত কালেক্টররা টোল আদায় করছেন। এরপরও তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইজারাদাররা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম মাহমুদ তালুকদারসহ বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, ওই নেতারা অবৈধভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে আন্দোলন সংগঠিত করছেন।
জিয়াউর রহমান ও ওয়াহেদ আলী বলেন, বৈধ ইজারা নিয়ে সরকারি নিয়মে টোল আদায় করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে তাদের সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
তবে ইজারাদারদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম মাহমুদ তালুকদার। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ওপর করা অন্যায়—অত্যাচারের অভিযোগ আড়াল করতেই ইজারাদাররা তাঁর ও অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ তুলেছেন।
মাসুম মাহমুদ তালুকদার বলেন, শ্রমিকরা এখানে নির্যাতিত হয়ে সংগঠিত হয়েছে। হাজারো শ্রমিক পথে নেমেছে। আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য। অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়টি নিয়ে সোমবার আইনশৃঙ্খলা সভায়ও আলোচনা হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা জামালগঞ্জে আসবেন। সেখানে শ্রমিক, ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত রবিবার অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তুলে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন নৌযান শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, জামালগঞ্জ অংশে সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টোল আদায় করা হচ্ছে। এতে নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সমাবেশে বক্তারা অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি নির্ধারিত হারে টোল আদায় নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিন দিনের মধ্যে কথিত অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিকরা।
অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে ইজারাদাররা তাঁদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি বৈধ ইজারা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন