প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৭
সরকারি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে শতভাগ তথ্য হালনাগাদ রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবির) সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)। সংগঠনটির অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ না থাকায় নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের দালালের দ্বারস্থ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন সনাক, সুনামগঞ্জের সভাপতি কানিজ সুলতানা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর—এর সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সরকারি ওয়েব পোর্টালে তথ্য হালনাগাদ না থাকার মূল দায় কার?
কানিজ সুলতানা: প্রত্যেক সরকারি দপ্তরের ওয়েব পোর্টাল নিয়মিত হালনাগাদ থাকার কথা। এর জন্য নির্দিষ্ট কর্মকর্তাও থাকার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ওয়েব পোর্টালে পুরোনো তথ্য ও নোটিশ থেকে যায়, নতুন তথ্য যুক্ত করা হয় না। আমার মতে, যে কর্মকর্তার ওপর ওয়েব পোর্টালের তথ্য হালনাগাদের দায়িত্ব রয়েছে, এ বিষয়ে তার দায় রয়েছে। শুধু কর্মকর্তা নিয়োগ দিলেই হবে না, নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: তথ্য হালনাগাদ না থাকায় নাগরিকদের কী ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে?
কানিজ সুলতানা: নাগরিকদের অনেক ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। যে তথ্য ঘরে বসেই পাওয়ার কথা, সেটি না পেয়ে মানুষকে সরাসরি সরকারি অফিসে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামের মানুষ অনেক সময় প্রয়োজনীয় তথ্য না জানায় দালালের খপ্পরে পড়েন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হয়। কোনো সেবা দুই দিনে পাওয়ার কথা থাকলেও তথ্যের অভাবে অনেক সময় সেটি পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। আবার ভুল বা পুরোনো তথ্যের কারণে মানুষ সঠিক সেবাটিও সময়মতো পাচ্ছেন না। অফিসে যাওয়ার যাতায়াত খরচ এবং দালালের মাধ্যমে কাজ করাতে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়টিও ভোগান্তির অংশ।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: তথ্য হালনাগাদে কর্মকর্তাদের অনীহার কারণ কী বলে মনে করেন?
কানিজ সুলতানা: অনেক কর্মকর্তা লোকবল সংকটের কথা বলেন। একটি দপ্তরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা—কর্মচারী না থাকায় একজন বা দুজনকে অনেক কাজ সামলাতে হয়। এটিও একটি কারণ হতে পারে। তবে নাগরিকদের সচেতনতার অভাবও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। নাগরিকরা যদি নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন হন এবং সরকারি দপ্তরের কাছে নিয়মিত প্রশ্ন করেন, তাহলে কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে। নাগরিকদের পক্ষ থেকে জবাবদিহির দাবি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে তথ্য হালনাগাদের বিষয়টি গুরুত্ব হারাচ্ছে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শুধু মানববন্ধন নয়, শতভাগ তথ্য নিশ্চিত করতে সনাক কী উদ্যোগ নিতে চায়?
কানিজ সুলতানা: শুধু মানববন্ধন করলেই হবে না। মানুষকে সচেতন করতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন জায়গায় লিফলেট বিতরণসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর কথা ভাবা হচ্ছে। নাগরিকদের জানতে হবে—কোন সরকারি দপ্তরে কী সেবা পাওয়া যায়, সেবাটি পেতে কত সময় লাগে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্ব কী। সরকারি ওয়েব পোর্টালে এসব তথ্য থাকলে মানুষ ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। বর্তমানে প্রায় সবার হাতেই স্মার্টফোন রয়েছে। গ্রামাঞ্চলেও মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। তাই ওয়েব পোর্টালে সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য থাকলে অপ্রয়োজনে মানুষকে সরকারি অফিসে যেতে হবে না। এতে সময়, অর্থ ও শ্রম—তিনটিই সাশ্রয় হবে। ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কোনো একটি সেবা পেতে মানুষকে অনেক সময় দীর্ঘদিন ঘুরতে হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইটে যদি সেবার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সম্ভাব্য সময়সীমা স্পষ্টভাবে দেওয়া থাকে, তাহলে নাগরিকরা আগে থেকেই বিষয়টি জানতে পারবেন।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ওয়েব পোর্টালে তথ্য হালনাগাদ না রাখলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মনে করেন কি?
কানিজ সুলতানা: অবশ্যই জবাবদিহিতা থাকা উচিত। যারা নিয়মিত ও নিষ্ঠার সঙ্গে ওয়েব পোর্টালের তথ্য হালনাগাদ করেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকা দরকার। এতে অন্য কর্মকর্তারাও উৎসাহিত হবেন। যারা দায়িত্ব পালন করছেন না, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কারণ অনেক সময় ওয়েবসাইটে এমন তথ্য থাকে, যা অনেক পুরোনো। নাগরিকরা সেই তথ্যের ভিত্তিতে কোনো সেবা নিতে গিয়ে দেখেন, সেটি আর কার্যকর নেই; এরই মধ্যে নতুন নিয়ম বা তথ্য চালু হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন