প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৬
মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বহুল আলোচিত ২০০৮ সালের হত্যা মামলায় দুই ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক শ্যাম কান্ত সিন্হা এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন— ছাতক উপজেলার বিনন্দপুর গ্রামের জাহির আলী ওরফে জাহির উদ্দিনের দুই ছেলে আক্তার হোসেন এবং আকমল হোসেন ওরফে আকল।
আদালতের দেওয়া রায়ে দণ্ডবিধি ১৮৬০—এর ৩০২ ধারায় আসামী আক্তার হোসেন ও আকমল হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বিশ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এছাড়া দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারায় আসামী আকমল হোসেনকে অতিরিক্ত ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুটি সাজা একই সাথে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জাহির আলীর স্ত্রী আসামী ছবুতেরা বেগমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। অপর আসামী জাহির আলী বিচার চলাকালীন মারা যাওয়ায় তাঁকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১ মে বিকালে ছাতক উপজেলার বিনন্দপুর গ্রামে একটি পতিত জমির নালায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংবাদদাতা মো. শহীদ আলীর পিতা হাসন আলী ভুতুর সঙ্গে আসামী জাহির আলীর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অন্য আসামীরা দা ও ডেগারসহ দেশীয় প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। জাহির আলীর নির্দেশে আকমল হোসেন ভিকটিম হাসন আলীকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন এবং আক্তার হোসেন ডেগার দিয়ে তাঁর বুকের বাম পাশে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। উদ্ধার করতে এলে সংবাদদাতা শহীদ আলীকেও রামদা ও ডেগার দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁদের কৈতক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক হাসন আলী ভুতুকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ২০০৮ সালের ২ মে ছাতক থানায় মামলা (নং—০৩) দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে এসআই মো. আজিজুল ইসলাম চৌধুরী চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের দায়রা ২১/২০০৯ হিসেবে বিচারকার্য পরিচালিত হয়।
সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামী আক্তার হোসেন ও আকমল হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে দ্রুত গ্রেপ্তার কিংবা আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আইনানুগ সাজা কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন