লুট বন্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৩

মরাচেলা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন

দোয়ারাবাজারের মরাচেলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটের অভিযোগে নদীতীরের বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, সড়ক ও ফসলি জমি ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও অভিযোগের পরও বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের অভিযান চললেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক করণীয় নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন জেলা বিএনপির নেতা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম জেলা কমিটির আহবায়ক অ্যাড. শামসুর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও ডিজিটাল ইনচার্জ সাইদুর রহমান আসাদ।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: মরাচেলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এটি ঠেকানো যাচ্ছে না কেন?
শামসুর রহমান: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। মরাচেলা নদীর আশপাশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে মানুষের ঘরবাড়ি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের পর কিছুদিন বালু উত্তোলন বন্ধও ছিল। তবে পরে আবার শুরু হয়েছে। এখন অনেক সময় দিনে না করে রাতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কারণে প্রশাসনের তৎপরতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কোনো ঘাটতি দেখছেন কি?
শামসুর রহমান: আমার জানামতে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে রাতে বালু উত্তোলনের বিষয়টি মোকাবিলায় তৎপরতা আরও জোরদার করা দরকার।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দায় কে নেবে?
অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান: এখানে একটি বিষয় বুঝতে হবে। অনেক জায়গা খাস হলেও কিছু মানুষ এসব জায়গায় দখল ধরে রাখেন। পরে অধিক টাকার লোভে তারা সেই দখল ইজারাদারদের কাছে বিক্রি করে দেন। এতে শেষ পর্যন্ত তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কোনো কোনো জমির আগে ২০ হাজার টাকাও মূল্য ছিল না। এখন বালু উত্তোলনের জন্য সেই জমি ৭ থেকে ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: কারও বাড়ির নিচে বা জমিতে যদি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন বালু বা মাটি থাকে, তাহলে তিনি কি সেটি এভাবে বিক্রি করতে পারেন?
শামসুর রহমান: না, এটি অবৈধ। যারা এ ধরনের বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তারা মূলত নিজেদের দখল বিক্রি করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বারবার বলা হচ্ছে, এভাবে এসব জায়গা বিক্রি করার অধিকার তাদের নেই। কিন্তু অধিক টাকার লোভে কেউ কেউ জেনেও এ কাজে জড়াচ্ছেন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অধিক মুনাফার লোভে যারা এভাবে সরকারি জমির দখল বিক্রি করছেন, তাদের আইন প্রয়োগ করে জরিমানা বা শাস্তির আওতায় আনা যায় কি?
অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান: অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসন এ দিকটি তদন্ত করে যারা টাকার বিনিময়ে এভাবে ক্ষতির কারণ তৈরি করছেন, তাদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে পারে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: প্রশাসনের অভিযানে শ্রমিক আটক ও জরিমানার ঘটনা দেখা যায়। কিন্তু মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন—এ অভিযোগের প্রতিকার কী?
শামসুর রহমান: এ অভিযোগের প্রতিকার হলো আরও নিবিড়ভাবে তদন্ত করা। শ্রমিকরা হয়তো টাকার জন্য এই কাজে যুক্ত হন এবং দুই—চারশ বা পাঁচশ টাকা কিংবা এক হাজার টাকা পান। কিন্তু মূল যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত, তারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। তাই স্থানীয় প্রশাসনের উচিত প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: মরাচেলা নদী রক্ষায় এই মুহূর্তে কী করণীয় বলে মনে করেন?
শামসুর রহমান: প্রশাসনিক ও পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জনগণকে সচেতন করতে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও সভা—সমাবেশ করা যেতে পারে। স্থানীয় সচেতন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে জনগণকে সচেতন করা গেলে অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখা সম্ভব।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
শামসুর রহমান: স্থানীয় জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন ও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। প্রশাসনের তৎপরতার পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা থাকলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার