প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৫
ধর্মপাশায় সৌরভ মিয়া (২২) নামে এক যুবককে তাঁর স্ত্রীসহ মামলায় অভিযুক্তরা আত্মহত্যায় বাধ্য করেছিলেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে সিলেট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। সৌরভের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মাহিনুর আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছিলেন তাঁর মা মমতা খাতুন। মামলায় সৌরভকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হয়। তবে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁকে আত্মহত্যায় বাধ্য করার বিষয়টি উঠে এসেছে।
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের নোয়াবন্দ গ্রামের সাজ্জাত মিয়া ও মমতা খাতুন দম্পতির ছেলে সৌরভ। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি মাহিনুর আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর মাহিনুরের পরিচিত এক প্রেমিক যুগল প্রায়ই সৌরভের অনুপস্থিতিতে তাঁদের ঘরে আসত বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি জানতে পেরে সৌরভ তাঁর স্ত্রীকে তাঁদের এমন কর্মকাণ্ডে প্রশ্রয় না দিতে বলেন। এ নিয়ে স্বামী—স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে মাহিনুর বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন সৌরভ। ঘটনার আগের দিন বিকেলে মাহিনুর ফোন করে সৌরভকে তাঁর বাবার বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে মাহিনুরসহ কয়েকজন তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাঁর মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ করেন সৌরভের মা।
গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি মাহিনুরের বাবার বাড়ি থেকে সৌরভের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। দীর্ঘ আট মাস পর, গত বছরের ২৭ অক্টোবর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পান সৌরভের পরিবারের সদস্যরা। ওই প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে সৌরভকে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী মাহিনুর আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্মপাশা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন তাঁর মা মমতা খাতুন। পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কামাল বলেন, সৌরভের মায়ের দাবি, তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মঙ্গলবার পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে স্ত্রীসহ অভিযুক্ত চারজন সৌরভকে আত্মহত্যায় বাধ্য করেছিল।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন