প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০০
গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তারা
ছবি-সু.খবর
সরকারি দপ্তরগুলোতে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত না হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা আনা কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যম কর্মীগণ। তাঁরা সরকারি সব দপ্তরে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা নিশ্চিত করা এবং ওয়েবসাইটে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সরকারের প্রথম ছয় মাসের অর্জন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিকরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। সভাপতিত্ব করেন সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা হাছিনা আক্তার।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত জ্যেষ্ট গণমাধ্যম কর্মীরা বলেন, সুনামগঞ্জ একটি প্রান্তিক ও কৃষি প্রধান জেলা। জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নাম ও যোগাযোগের তথ্য অনেক ক্ষেত্রে হালনাগাদ নেই। কোথাও কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেলেও ওয়েবসাইটে আগের কর্মকর্তার তথ্য রয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো দপ্তরে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তাই নেই। কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি সাংবাদিকের চাওয়া তথ্য যথাযথভাবে সরবরাহ করেন, তাহলে সাংবাদিকদের বারবার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার দ্বারস্থ হতে হয় না। এতে একদিকে সময় বাঁচে, অন্যদিকে সরকারি সেবার স্বচ্ছতা বাড়ে।
সুনামগঞ্জের কৃষি ও খাদ্য বিভাগের তথ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও তুলে ধরেন গণমাধ্যম কর্মীগণ। তিনি বলেন, খাদ্য বিভাগের ওয়েবসাইটে কত টন ধান কেনা হয়েছে, কতটুকু কেনা বাকি এবং কখন থেকে কখন পর্যন্ত ধান কেনা হবে—এসব তথ্য সহজে পাওয়া যায় না। এসব তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলে কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা সহজেই জানতে পারবেন, কোথায় ধান কেনা হচ্ছে এবং কারা সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় আসছেন।
সাংবাদিকরা বলেন, সুনামগঞ্জে বিপুলসংখ্যক মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। তাই কৃষি ও খাদ্য বিভাগের কার্যক্রমে তথ্যের স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, সরকারের বিভিন্ন কাজ ও প্রতিশ্রম্নতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করা এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, শিশুদের জন্য নতুন বই বিতরণ, নতুন উপবৃত্তি প্রদানসহ বিভিন্ন সুযোগ—সুবিধা দেওয়ার কার্যক্রম সরকার চালিয়ে যাচ্ছে। শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪০ লাখ পরিবার সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারে সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা হাছিনা আক্তার বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের উচিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা। এতে জেলার বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে প্রশাসন সহজে জানতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণমাধ্যমকর্মীরা যেভাবে প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে পারেন, সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষে সবসময় তা সম্ভব হয় না।
সরকারি সেবাখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সিস্টেম উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন হাছিনা আক্তার। তিনি বলেন, সেবাখাতগুলোকে কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে আনতে সময় প্রয়োজন। সিস্টেম চালু হলে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।
সেমিনারে বক্তারা গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, সরকারি তথ্য সহজলভ্য করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন, সুনামগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক শেখ ওয়ালিদ ফয়েজসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন