এআই দিয়ে লেখা নয়, নিজের সৃজনশীলতাকে সমৃদ্ধ করুন

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩৮

লেখালেখি কর্মশালায় লেখক ও প্রাবন্ধিক কুমার সৌরভ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরাসরি লেখা তৈরি না করে নিজের সৃজনশীলতাকে সমৃদ্ধ করতে এআই ব্যবহার না করার আহবান জানিয়েছেন লেখক ও প্রাবন্ধিক কুমার সৌরভ। তিনি বলেছেন, এআইকে দিয়ে লেখা তৈরি করিয়ে নিলে লেখকের নিজস্ব চিন্তা ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিজের লেখার বিষয়বস্তু ও কাঠামো নিজেকেই তৈরি করতে হবে।
শনিবার সুনামগঞ্জ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত লেখালেখি কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

 


কুমার সৌরভ বলেন, বর্তমানে চ্যাটজিপিটিসহ বিভিন্ন এআই টুলকে নির্দেশ দিলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রবন্ধ, সংবাদ কিংবা অন্য ধরনের লেখা তৈরি করে দেওয়া সম্ভব। বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এআই দিয়ে কবিতা লিখে স্কুল ম্যাগাজিনে জমা দিচ্ছে— এমন অভিজ্ঞতার কথাও শিক্ষকরা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অভিজ্ঞ ও পরিশীলিত পাঠক অনেক সময় বুঝতে পারেন কোনটি এআই—নির্ভর লেখা আর কোনটি মানুষের নিজের লেখা। তাই নবীন লেখকদের এআইকে লেখার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং নিজের লেখাকে সমৃদ্ধ করার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

 


কুমার সৌরভ বলেন, নিজে লিখুন। নিজে লিখে সেটা এআই দিয়ে সম্পাদনা করাতে পারেন। কিন্তু লেখার বিষয়বস্তু নির্ধারণ থেকে শুরু করে লেখাটির কাঠামো আপনাকেই তৈরি করতে হবে। বানান ও বাক্যের ভুল সংশোধন, বাক্য গঠনের অসঙ্গতি দূর করা কিংবা লেখাকে পরিমার্জনের কাজে এআই ব্যবহার করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে পুরোপুরি এআই—নির্ভর লেখালেখি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

 


প্রবন্ধ লেখার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরে কুমার সৌরভ বলেন, প্রবন্ধকে ‘প্রকৃষ্ট বন্ধন’ হিসেবে দেখা যায়। অর্থাৎ কোনো বিষয়কে উৎকৃষ্টভাবে পাঠকের সামনে হাজির করাই প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, লেখার মাধ্যমে পাঠককে আকৃষ্ট করতে হবে এবং নতুন কিছু জানার বা নতুনভাবে চিন্তা করার সুযোগ দিতে হবে। পাঠক যদি লেখার বিষয়বস্তুর ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন, তাহলে সেই লেখার সার্থকতা থাকে না।

 


প্রবন্ধ লেখার ক্ষেত্রে প্রথমেই বিষয় নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, লেখককে এমন বিষয় বেছে নিতে হবে যে বিষয়ে তার আগ্রহ ও স্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, হালনাগাদ তথ্য ও বিভিন্ন রেফারেন্স সংগ্রহ করতে হবে।
প্রবন্ধ লেখার একটি ধারাবাহিক কাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমে বিষয় নির্বাচন, এরপর বক্তব্য, যুক্তি, উদাহরণ, বিশ্লেষণ এবং সবশেষে উপসংহার। এই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করলে লেখার বিষয়বস্তু পাঠকের কাছে সহজে উপস্থাপন করা সম্ভব।

 


লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব তুলে ধরে কুমার সৌরভ বলেন, একই ঘটনাকে মানুষ ভিন্নভাবে দেখতে পারে। বৃষ্টিকে একজন সৌখিন মানুষ উপভোগ করলেও বৃষ্টির মধ্যে কাজ করতে বের হওয়া রিকশাচালক বা দিনমজুরের কাছে সেটি উপভোগ্য নাও হতে পারে। একইভাবে ক্ষুধার তাড়নায় একজন মানুষ দোকান থেকে পাউরুটি চুরি করলে আইনের দৃষ্টিতে সেটি অপরাধ। কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে বিষয়টির ভিন্ন দিক সামনে আসে। তাই লেখকের নিজের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট থাকা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লেখকদের বেশি বেশি পড়ার আহ্বান জানিয়ে কুমার সৌরভ বলেন, চিন্তার সক্ষমতা বাড়াতে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। প্রচুর পড়াশোনা করলে চিন্তার জগৎ সমৃদ্ধ হয় এবং লেখার বিষয়েও নতুনত্ব আসে। তিনি বলেন, একজন লেখককে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানার পাশাপাশি নিজের দৃষ্টিভঙ্গিও পরিষ্কার রাখতে হবে। একই বিষয়কে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সক্ষমতা একজন লেখকের লেখাকে আরও সমৃদ্ধ করে।


লেখার ক্ষেত্রে প্রথম খসড়াকেই চূড়ান্ত না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, লিখে আবার খসড়া তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়বারের খসড়ায় আগের লেখার ঘাটতিগুলো সহজেই চোখে পড়বে এবং সেগুলো সংশোধনের সুযোগ তৈরি হবে।

 


লেখালেখির ক্ষেত্রে শর্টকাট পদ্ধতিতে সফলতা অর্জন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজের সৃজনশীলতা ও জ্ঞানের জগৎকে সমৃদ্ধ করেই লেখালেখিতে এগিয়ে যেতে হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার