‘লেখালেখি মানুষের চিন্তার বিকাশ ঘটায়’

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪২

জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরিতে লেখালেখি কর্মশালায় জেলা প্রশাসক

লেখক হতে চাইলে এক লাইন লেখার জন্য অন্তত ১০ লাইন পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। তিনি বলেন, লেখক হওয়ার পূর্বশর্ত হলো ক্রমাগত পড়া। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি আয়োজিত লেখালেখি কর্মশালার উদ্বোধনী আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার লাইব্রেরি মিলনায়তনে কর্মশালায় ৭০ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন।

 

 


জেলা প্রশাসক বলেন, লেখালেখি মানুষের চিন্তার বিকাশ ঘটায় এবং সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক নানা সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। তাঁর ভাষায়, শেক্সপিয়ার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, রবার্ট ফ্রস্ট, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে ও উইলিয়াম ফকনারসহ বিশ্ববরেণ্য সাহিত্যিকেরা সবাই ছিলেন ব্যাকুল পাঠক। চিন্তা করার ক্ষমতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা মস্তিষ্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসে না, তা অর্জন করে নিতে হয়। তিনি বলেন, আপনি এমন কোনো বিখ্যাত লেখক পাবেন না, যিনি বলবেন, ‘আমি না পড়েই ভালো লিখি’। রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপিতেও অনেক কাটাকাটি ও ঘষামাজা দেখা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, লেখা সহজ কাজ নয়, এটি সাধনা।

 

 

 

 

 

 


লেখালেখিকে একটি শিল্প উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ডাক্তার বা প্রকৌশলী হতে যেমন নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মানতে হয়, লেখক হতেও তেমনি ধাপে ধাপে শিখতে হয়। তিনি লেখকদের শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, চর্যাপদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাষার মহাকাব্য ও ক্লাসিক সাহিত্য পড়তে হবে এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের গদ্যের কাঠামো আয়ত্ত করতে হবে। রূপক, উপমা ও অতিশয়োক্তির মতো অলংকারিক বাক্যরীতিও রপ্ত করা জরুরি, কারণ এগুলো লেখাকে জীবন্ত, অর্থময় ও আকর্ষণীয় করে তোলে। গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শিকড় ও মাটির গন্ধ ছাড়া কেউ আন্তর্জাতিক মানের সাহিত্যিক হতে পারেন না।

 

 


নিজের প্রিয় ঔপন্যাসিক উইলিয়াম ফকনারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফকনার ‘স্ট্রিম অব কনশাসনেস’ রীতি নিপুণভাবে প্রয়োগ করেছেন। ফকনারের নোবেল পুরস্কার গ্রহণের বক্তব্য থেকে তিনি বলেন, আমি মানুষের অবসান বা চূড়ান্ত পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করি। আমি বিশ্বাস করি মানুষ কেবল টিকেই থাকবে না, সে জয়ী হবে। হেমিংওয়ের ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ থেকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, মানুষ পরাজিত হওয়ার জন্য তৈরি হয়নি। মানুষকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়, কিন্তু তাকে পরাজিত করা যায় না। রবার্ট ফ্রস্টের ‘স্টপিং বাই উডস অন আ স্নোয়ি ইভনিং’ কবিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সমাজ, পরিবার ও দেশের প্রতি প্রত্যেক মানুষের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, লেখকেরা দায়িত্বশীল সত্তা এবং দেশের বিবেক নিয়ে কাজ করেন। তাঁরা মাটির সন্তান এবং বঞ্চিত, অবহেলিত ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। এ কথা বলে তিনি কর্মশালার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

 


লাইব্রেরির সহসভাপতি সুখেন্দু সেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক খলিল রহমান। কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন কবি ইকবাল কাগজী, লেখক ও প্রাবন্ধিক কুমার সৌরভ এবং লেখক—সাংবাদিক উজ্জ্বল মেহেদী। ইকবাল কাগজী কবিতা ও ছড়া, কুমার সৌরভ গল্প ও প্রবন্ধ এবং উজ্জ্বল মেহেদী সংবাদ ও ফিচার নিয়ে আলোচনা করেন।

 


কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দনপত্র দেওয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লাইব্রেরির সহসভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, লোকসংস্কৃতি গবেষক মোহাম্মদ সুবাস উদ্দিন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এনাম আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাছান শাহীন, সহসাধারণ সম্পাদক দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী ও এ আর জুয়েল এবং সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন ও সুরঞ্জিত গুপ্ত রঞ্জু।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার