প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫০
ছাতক-দোয়ারার ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা পরিবেশ অধিদপ্তরের
দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের মরাচেলা (সোনালী চেলা) নদীর পাড় কেটে বেআইনিভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৩৭ জন নামের উল্লেখসহ ১০—১৫ জন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার রাতে (৬ অক্টোবর) দোয়ারাবাজার থানায় পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গেল ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনালী চেলা নদীসংলগ্ন শ্রীপুর মৌজার সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক সরেজমিন পরিদর্শন করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও পরিদর্শকালে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আসামিরা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করেছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা গত ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে সকাল পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে আনুমানিক ২৫ লক্ষ ঘনফুট বালু লোড—আনলোড করেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা।
মামলায় অভিযুক্ত ৩৭ জন আসামি হলো— জয়নাল আবেদীন মেম্বার (৫৫), জিয়াউর রহমান বোঘ (৫৫), জহর মেম্বার (৫৫), আব্দুল হেকিম চেয়ারম্যান (৬০), মোহাম্মদ আলী (৩৫), ধন মিয়া মেম্বার (৬০), রফিকুল ইসলাম (৫৫), ফখরুল ইসলাম (৪০), নিজাম উদ্দিন নিধান (৫২), ফরিদ মিয়া (৪৫), শরীফ মিয়া (৩৫), মনসুর আলী (৪০), সিদ্দিক মিয়া (৪৫), চেনু মিয়া (৪০), জামশেদ মিয়া (৬২), আলা উদ্দিন (৪০), ওমর (৪০), রফিক মিয়া (৩৮), কালাম ডাক্তার (৪৮), আইনুদ্দিন (৪০), সাদ্দাম মিয়া (৩৫), সানির মিয়া (২৫), মনির মিয়া (২২), জালাল মিয়া (৫৫), মাসুক মিয়া (২৮), সমুর মিয়া (৪০), বসির মিয়া (২৫), রমজান মিয়া (৩৫), আবুল কালাম (৪৫), নুরু মিয়া (৪৪), বকুল মিয়া (৩৫), মো: আলী (৪০), শফিকুল ইসলাম (৪৫), দ্বীন ইসলাম (৪৫), বুলবুল আহমদ (৪৮), লিটন মিয়া (৪০) ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (৪৩)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০—১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত—২০১০)—এর ৬(ঙ), ১২ এবং ১৫(১) ধারায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক জানান, আসামিরা অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বিপুল পরিমাণ বালু তুলে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। মামলাটি তদন্ত শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা আদালতে দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করবেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন