বেহাল ব্রিটিশ সড়ক

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০২

সংস্কারের আট মাস না পেরোতেই আবারও বেহাল হয়ে পড়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বৃটিশ—বাংলাবাজার সড়ক। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় ভাঙন ও খানাখন্দ। উঠে গেছে পিচ ও পাথর, সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

 


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০ লাখ টাকা এবং উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আরও ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সড়কটির বিভিন্ন অংশের খানাখন্দ সংস্কার করা হয়। এই কাজে মোট ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়।

 

 

 

 

 


তবে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার আট মাস না যেতেই সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে শতাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। একারণে উপজেলার অন্যতম বৃহৎ হাট বাংলাবাজার এবং বাঁশতলা পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতকারী মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন চালকেরা।

 


সংস্কারের পর এত অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজের সময় যথাযথ তদারকির অভাব এবং অনিয়মের কারণেই সংস্কারের অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটির এমন বেহাল দশা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংস্কারকাজ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম তাদের নজরে আসে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কাজের মানে অনিয়ম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করা হলেও অনিয়ম বন্ধ না হওয়ায় একপর্যায়ে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেন। পরে সঠিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দেওয়ার পর পুনরায় সংস্কারকাজ শুরু করে তা শেষ করা হয় বলে জানান তারা।

 


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, সড়কের বিভিন্ন স্থানে রড ছাড়া ঢালাই, নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার, অপরিষ্কার ও মিশ্রিত বালু ব্যবহার এবং খানাখন্দ ভরাটে বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহারের মতো অনিয়ম করা হয়েছে। এসব অনিয়মের তথ্য—প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন বলেও দাবি করেন তারা। পরে সঠিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দেওয়া হলে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়।
পথচারী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সরকারি টাকা খরচ করে রাস্তা বানানো হয় মানুষের সুবিধার জন্য। কিন্তু এক বছরও যদি রাস্তা টেকসই না হয়, তাহলে সেই কাজের কী মূল্য রইল? এটা জনগণের টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

 


স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সড়কটির দ্রুত ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। তাই টেকসইভাবে সংস্কার করা জরুরি ছিল। জোড়াতালির কাজের কারণেই আবারও সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কটি টেকসই করতে শুধু ওপরের পিচ সংস্কার করলেই হবে না। সড়কের নিচের ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় বারবার সংস্কার করেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

 


এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল হামিদ বলেন, এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ হয়েছে। যেখানে কাজ করার কথা ছিল, সেখানেই কাজ করা হয়েছে। এখন নতুন জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো সমাধানের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার