সংবাদ প্রকাশের পর শাল্লার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রত্যাহার

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৪

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সংবাদ প্রকাশের পর শাল্লা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার স্থলে শাল্লা অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিরাই উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল খানকে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ সাদী রহমতুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দিরাই উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল খানকে শাল্লায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 


রাশেদুল ইসলামের স্থলে অন্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ওএসডি এমনকি চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ খালেকুজ্জামান।

 


সৈয়দ খালেকুজ্জামান বলেন, কাজ ও উন্নয়নের স্বার্থে দিরাইয়ের প্রকৌশলীকে শাল্লায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ অপরাধ করলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। তদন্ত করে ইতোপূর্বেই রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নেতিবাচক রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। বদলি সুচিন্তিতভাবে হতে পারে, এমনকি দপ্তরবিহীন ওএসডিও হতে পারে।

 


স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন কাজ ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কাজের অর্থ পরিশোধ না করা, টিউবওয়েল স্থাপন এবং সংশ্লিষ্টদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের তথ্য বিভাগীয় তদন্তেও উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

 


হবিবপুর ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়দেব চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, ইউএনডিপি থেকে তার নামে বিনামূল্যে একটি টিউবওয়েল বরাদ্দ হলেও তিনি তা পাননি। জয়দেব চন্দ্র দাস বলেন, আমার নামে ইউএনডিপি থেকে একটি টিউবওয়েল বরাদ্দ হলেও আমাকে টিউবওয়েল না দিয়ে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পরে ঘরের গরু বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা খরচ করে নিজেই টিউবওয়েল বসিয়েছি। এতে আমি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

 


অন্যদিকে, টিউবওয়েল মিস্ত্রি হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন কাজ করেছেন। এসব কাজের বিপরীতে শাল্লার প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলামের কাছে তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। হাফিজুর রহমান বলেন, আমি কাজ করেছি, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। পাওনা টাকা না পাওয়ায় আমি আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জানিয়েছি। তদন্ত করে আমার পাওনা টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।

 


অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তিনি প্রায় চার মাস ধরে শাল্লার বাইরে রয়েছেন। তার ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।

 


এদিকে শাল্লার অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া দিরাইয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল খান বলেন, শাল্লার ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে গিয়ে যোগদান করব।

 


শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, শাল্লায় একজনকে উপসহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগের প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলামের সার্বিক অবস্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, তার বিষয়ে কিছু জানি না।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার