পদায়নে দুর্গম ও শিক্ষক-সংকটের বিদ্যালয়ে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৬

সুনামগঞ্জ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়া ৫৯৮ জনের পদায়ন লটারির মাধ্যমে করা হচ্ছে। এর আগে ১২০ জনের নিয়োগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলেও পরবর্তীতে ১১৫ জন নিয়োগ আদেশ পেয়েছেন। পদায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিয়োগ জটিলতা এবং দুর্গম ও শিক্ষক—সংকটের বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়ন নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় এ বিষয়ে কথা বলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সদস্য অ্যাড. হাফেজা ফেরদৌস লিপন। সঞ্চালনায় ছিলেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে পদায়ন কতটা স্বচ্ছ ও ন্যায্য হচ্ছে বলে মনে করছেন?
অ্যাড. হাফেজা ফেরদৌস লিপন: আমি বলব, পুরোপুরি স্বচ্ছ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেই নির্দেশনা ছিল সারা বাংলাদেশে লটারির মাধ্যমে পদায়ন করার। প্রথমে যেসব শিক্ষক প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে বদলি বা পদায়নের আদেশ পেয়েছেন, তাদের পদায়ন করতে বলা হয়েছে। এরপর নতুন শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হচ্ছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: বিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে?
অ্যাড. হাফেজা ফেরদৌস লিপন: প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে যারা বদলি বা পদায়নের আদেশ পেয়েছেন, তাদের বিষয়টি আগে বিবেচনা করা হচ্ছে। এরপর নতুন শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হচ্ছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ১২০ জনের নিয়োগ নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার কারণ কী ছিল?
হাফেজা ফেরদৌস লিপন: সুনামগঞ্জ জেলায় প্রথমে ৬৩৫ জনের নিয়োগাদেশ এসেছিল। এত বড় সংখ্যক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের কাগজপত্র যাচাই—বাছাই করতে হয়েছে। এতে সময় লেগেছে। বৃহস্পতিবার অফিস সময় শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সব কাগজপত্র যাচাই শেষ করা সম্ভব হয়নি। এরপর শুক্র ও শনিবার অফিস বন্ধ থাকায় বাকি যাচাই—বাছাই করে রবিবার ফলাফল দেওয়া হয়েছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: আন্দোলনের পর ১১৫ জনের নিয়োগ আদেশ পাওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
হাফেজা ফেরদৌস লিপন: আমি এটাকে ঠিক আন্দোলন বলব না। সময়ের কারণে ১২০ জনের কাগজপত্র যাচাই—বাছাই শেষ না হওয়ায় তাদের হাতে নিয়োগ আদেশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে অফিসে এসেছিলেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি তাদের বুঝিয়ে বলার পর তারা বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং পরদিন নিয়োগ আদেশ পেয়েছেন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নতুন শিক্ষকদের পদায়নে দুর্গম ও শিক্ষক—সংকটের বিদ্যালয়গুলো কতটা গুরুত্ব পাবে?
হাফেজা ফেরদৌস লিপন: সুনামগঞ্জের জন্য লটারির এই প্রক্রিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে দেখা গেছে, শিক্ষকরা যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো এমন বিদ্যালয়ে যেতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ে যেতে অনেকে আগ্রহ দেখাতেন না। অথচ জেলার অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম রয়েছে। কোথাও ছয়জন শিক্ষক প্রয়োজন হলেও একজন বা দুইজন দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে হচ্ছে। দুর্গম ও শিক্ষক—সংকটের বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক দেওয়ার লক্ষ্যেই লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হচ্ছে। এতে ওই এলাকার শিশুরা যেন শিক্ষক সংকটে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, সেটিই গুরুত্ব পাচ্ছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: লটারির ফল নিয়ে কারও অভিযোগ থাকলে তা সমাধানের ব্যবস্থা কী?
হাফেজা ফেরদৌস লিপন: লটারির বিষয়ে অভিযোগের খুব একটা সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ পুরো প্রক্রিয়াটি লাইভে সম্প্রচার করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক সার্বক্ষণিক উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের শিক্ষা ও আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ জনসম্মুখে প্রকাশ্যেই লটারি হয়েছে। এটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী করা হয়েছে। এরপরও কেউ অভিযোগ করলে সেটি তার ব্যক্তিগত অধিকার। অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই—বাছাই করে দেখা হবে। তিনি নিজেও কমিটির সদস্য হিসেবে বিষয়টি যাচাইয়ে থাকবেন বলে জানান।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার