প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৫৫
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) দুইটি বাস চালু করা হয়েছে। একটি বাস সুনামগঞ্জ থেকে বিশ্বম্ভরপুর এবং অন্যটি সুনামগঞ্জ থেকে শান্তিগঞ্জ সড়কে চলাচল করছে। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের খরচ ও ভোগান্তি কমেছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিজস্ব বাস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের প্রধান ফটকের সামনে বিশ্বম্ভরপুর সড়কে চলাচলকারী ‘জাদুকাটা বাস’ দাঁড়িয়ে আছে। কলেজের ভেতরে রয়েছে শান্তিগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী ‘মহাসিং বাস’। দুপুর আড়াইটার আগেই ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার জন্য শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত বাসে উঠে বসেছেন। কেউ সহপাঠীদের সঙ্গে গল্প করছেন, কেউ আবার বাসে বসেই ক্লাসের পড়া ও সিলেবাস দেখছেন। উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষ থেকে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বাসে যাতায়াত করতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বাস ছাড়ার আগে পাশের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন। সব মিলিয়ে কলেজ ছুটির পর বাসগুলো শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে নিরাপদে।
কলেজের ডিপার্টমেন্ট অব হিস্ট্রির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, আগে বিশ্বম্ভরপুরের শক্তিয়ারখলা বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সুনামগঞ্জের আব্দুর জহুর সেতু পর্যন্ত আসতে ৮০ টাকা লাগত। সেতু থেকে কলেজ পর্যন্ত ভাড়া দিতে হতো আরও ২০ টাকা। যাওয়া—আসায় মোট ২০০ টাকা খরচ হতো। কলেজের বাস চালু হওয়ায় তার যাতায়াতের খরচ ও ভোগান্তি কমেছে।
বিআরটিসি বাসের চালক কাউসার আহমেদ স্বপন বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে দুটি বাস চালানো হচ্ছে। বিশ্বম্ভরপুর থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে বাসটি কারেন্টের বাজার, পলাশ বাজার, সালবন, লালপুর ও রাধানগর বাজার হয়ে সুরমা সেতু পার হয়ে কলেজে আসে। অন্য বাসটি শান্তিগঞ্জ থেকে একই সময়ে ছেড়ে আসে। দুপুর আড়াইটায় কলেজ থেকে বাস দুটি ফিরতি যাত্রা শুরু করে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন তারা। শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখিয়ে বাসে উঠতে হয়। নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা আইডি কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ভর্তি ফরম দেখিয়ে যাতায়াত করতে পারেন। কলেজের কর্মচারীরাও আইডি কার্ড দেখিয়ে বাসে উঠতে পারেন। তবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য বাসে ওঠার সুযোগ নেই।
চালক আরও জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি কোনো ভাড়া নেওয়া হয় না। কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস পরিচালনার খরচ পরিশোধ করা হয়। বর্তমানে দুটি বাসই চুক্তি অনুযায়ী ডিসেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এরপর বাস পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম আজাদ বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের চাহিদা ছিল। সেই চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্ব প্রহণের পর বিআরটিসির সিলেট ডিপোর সঙ্গে আলোচনা করে দুটি বাস চুক্তিভিত্তিক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে বাস দুটি বিশ্বম্ভরপুর ও শান্তিগঞ্জ সড়কে চলাচল করছে।
তিনি বলেন, কলেজের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার সময় পরিবহন তহবিলের জন্য নির্ধারিত অর্থ জমা দেন। সেই তহবিল থেকেই বাস পরিচালনার খরচ দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের নতুন করে কোনো ভাড়া দিতে হচ্ছে না। কলেজের আইডি কার্ড দেখিয়ে তাঁরা বাসে যাতায়াত করতে পারছেন।
নিজস্ব বাস কেনার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, সরকারি অনুমতি নিয়ে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে ৫২ আসনের একটি বাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাসটির বডি ও চেসিস প্রস্তুত হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এক মাসের মধ্যে বাসটি কলেজে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নিজস্ব বাস চালু হলে বিআরটিসির একটি বাসের প্রয়োজন কমতে পারে। তবে আমবাড়ি, দোয়ারাবাজার ও খাটাখালী এলাকার দিকে বিআরটিসির বাস চালানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ওই সড়কে বড় বাস চালানো সম্ভব না হলে কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে ৩৬ আসনের একটি মিনিবাস কেনার বিষয়েও চিন্তাভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন