প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৩৮
রঙের কাজ বাকি অধিকাংশ মণ্ডপে, নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক প্রশাসন
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন পালপাড়ার ত্রিনয়নী পূজামণ্ডপ থেকে তোলা -ছবি. সুখবর
মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। আগামী শুক্রবার সন্ধ্যায় বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে চলছে নানা প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা। অন্যদিকে, পূজার কেনাকাটায় ব্যস্ত ভক্তরা। শরতের আবহে দুর্গাপ্রতিমাকে নান্দনিক রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমাশিল্পীরা।
এ বছর প্রচলিত পঞ্জিকাভিত্তিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেবী দুর্গার আগমন ও গমনের বাহন নিয়ে রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘোটকে বা ঘোড়ায় দেবীর আগমনকে সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। অন্যদিকে, নৌকায় গমনকে শস্য ও জলবৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এসব ব্যাখ্যা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ।
অধিকাংশ মণ্ডপে এখনো প্রতিমার রঙের কাজ শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা। শনিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা মিলে এমন দৃশ্যের। কোথাও এখনো চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। কোথাও শুকানোর অপেক্ষায় রঙ শিল্পী। ভক্তদের প্রত্যাশা, বাকী যে দিনগুলো আছে তার ভিতরেই বাকী সব কাজ সম্পন্ন হবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। এ বছর উপজেলায় ২২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব মণ্ডপে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা—পুলিশ। নিরাপত্তায় একাধিক স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক, আনসার—ভিডিপি সদস্য, গ্রামপুলিশ ও পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, উপজেলার আটটি ইউনিয়নে পূজামণ্ডপগুলো অবস্থিত। এর মধ্যে জয়কলস ইউনিয়নে সর্বোচ্চ সাতটি এবং পশ্চিম পাগলা ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে চারটি করে পূজামণ্ডপ রয়েছে।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের চারটি পূজামণ্ডপ হলো— শত্রুমর্দন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সনাতন সংঘ পূজামণ্ডপ, শত্রুমর্দনের জগন্নাথ জিউর আখড়ায় পূর্বপাড়া অনির্বাণ সংঘ, অমর পালের বাড়িতে ত্রিনয়নী সার্বজনীন পূজামণ্ডপ এবং ব্রহ্মগাঁওয়ের লোকনাথ সার্বজনীন পূজামণ্ডপ।
জয়কলস ইউনিয়নের সাতটি পূজামণ্ডপ হলো—তেঘরিয়ার পঞ্চগ্রাম সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, সদরপুর অষ্টগ্রাম সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, কালী বাড়ি মন্দিরের জয়কলস অষ্টগ্রাম সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, দেবগ্রাম দুর্গা মন্দিরের দেবগ্রাম সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, ফতেপুরের শ্রীশ্রী নবদিগন্ত সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, ইমামনগরে রাকেশ চন্দ্রদের বাড়ির সার্বজনীন পূজামণ্ডপ এবং মির্জাপুর সার্বজনীন পূজামণ্ডপ।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের চারটি পূজামণ্ডপ হলো—হরিতলা মাঠের টাইলা সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটি, মৌকল্যা বড়বাড়ির সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, কালাচাঁন মন্দিরের সার্বজনীন পূজামণ্ডপ এবং মৌকল্যা মানিকের বাড়ির সার্বজনীন পূজামণ্ডপ।
পাথারিয়া ইউনিয়নের নগরে লিটন তালুকদারের বাড়িতে নগর সার্বজনীন পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। দরগাপাশা ইউনিয়নের দুটি পূজামণ্ডপ হলো—সৈয়দপুর কৃষ্ণতলার মাঠে সৈয়দপুর যুব সংঘ সার্বজনীন পূজামণ্ডপ এবং মৌগাঁও নওয়াবাড়িতে মৌগাঁও সনাতন সংঘ সার্বজনীন পূজামণ্ডপ।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের দামোধরতপী এলাকায় শ্রীমান মন্তু সূত্রধরের বাড়িতে দামোধরতপী সার্বজনীন পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের হরিদাসের বাড়িতে সলফ একতা সংঘ এবং বাবনগাঁও মন্দিরে বাবনগাঁও সার্বজনীন পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। শিমুলবাগ ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর কালী মন্দিরের পাশে রামেশ্বরপুর সার্বজনীন পূজামণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জ্যোতিভূষণ তালুকদার (ঝন্টু) ও সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত চৌধুরী (টপ্পা) বলেন, এ বছর আমরা ২২টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করব। প্রতি বছরই শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করে থাকি। সরকারের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে, এ বছরও সবকিছু ভালোভাবে সম্পন্ন হবে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি ছিল পূজার ছুটি বাড়ানোর। সরকার আমাদের দাবি রেখেছে। এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। উপজেলা প্রশাসনও আমাদের প্রতি আন্তরিক। সবাইকে নিয়ে আনন্দের মধ্য দিয়ে পূজার দিনগুলো কাটাতে চাই।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় ১০০ কেজি বেশি। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি মণ্ডপে দুই বা ততোধিক সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। পুলিশ, আনসার, গ্রামপুলিশ ওস্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করছি, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন হবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলী উল্লাহ বলেন, আমাদের মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। সাদা পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও কাজ করবেন। আশা করছি, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। ইতোমধ্যে আমরা একাধিক সভা করেছি, সামনে আরও সভা করব। নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকব।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন