প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:১১
সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে। সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে এই মেলা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুর ২টায় ষোলঘর মাঠে এই উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মেলার নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শামসুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব নাসিম উদ্দিন লালা, চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি এনাম আহমদ, বাণিজ্য মেলা কমিটির সদস্য হাফিজুল ইসলাম রাজুসহ সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, মেলা আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পক্ষে—বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মেলা আয়োজনে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা এবং শব্দ দূষণের কথা বলেছেন তারা। একই সঙ্গে বিগত সময়ে একই মাঠের মেলায় নিম্নমানের পণ্যের ছড়াছড়ির কথাও উল্লেখ করেছেন নেটিজনেরা।
ষোলঘরের বাসিন্দা আইনজীবী জাবেদ নূর শুক্রবার দুপুরে তার নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন,‘শুনলাম ষোলঘর মাঠে বাণিজ্য মেলা হবে। বাজারে যা পাওয়া যায়, মেলাতেও তাই, স্পেশাল কিছুতো নাই, যা আছে তা হলো বাহির থেকে কিছু লোক এসে আমাদের পকেট খালি করে নিয়ে গেলো, বোনাস হিসাবে আমরা পাইলাম, পরীক্ষার টাইমে শব্দদূষণ।’
মেলার মাঠের পাশের মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সাংবাদিক আইনজীবী খলিল রহমানও বার্ষিক পরীক্ষার আগে আগে মেলা আয়োজন বন্ধ রাখার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি এই বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
খলিল রহমানের স্ট্যাটাসে করা মন্তব্যে ষোলঘরের বাসিন্দা কবি মুনমুন চৌধুরী লিখেছেন, ‘কয়েক বছর ধরে আমরা ভুক্তভোগী। গভীর রাতে পিলে চমকানো বাজনার অত্যাচার, মানুষজনের চিৎকার, ছিচকে চোর বৃদ্ধি, যানবাহনের যানজট, ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের দিনের বেলায় স্কুল ফাঁকি দিয়ে আশেপাশে ঘুরে বেড়ানো, মেলার গেইটের বাইরে অস্থায়ী দোকানপাটের জন্য চলাচলের অসুবিধাসহ আরও অনেক কারণে পরিবেশের উপর চাপ পড়ে। মেলা করার সময় সবকিছু মাথায় রেখে স্থান, সময়সহ সব ধরণের বিষয় চিন্তা করে কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন আমরা সাধারণ জনগণ এটা আশা করবো।’
.jpg)
একই স্ট্যাটাসে মাহবুবুল আলম মাহিন নামের আরেকজন লিখেছেন,‘ষোলঘর মাঠে না দিয়ে সুরমা ব্রীজের ওপারে খোলা জায়গা আছে, সেখানে দিলে ভালো হয়, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এমপি ( অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল) মহোদয়ের সঙ্গে এলাকাবাসীর কথা বলা প্রয়োজন। তিনি লিখেন, সেখানে (ব্রীজের ওপারে) দিলে যানজট হবে না এবং আশপাশের থানার মানুষের জন্য সুবিধা হবে।’
প্রায় একই রকমের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন স্থানীয় অসংখ্য বাসিন্দা।
সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি শামসুল হক এসব মন্তব্যের জবাবে বললেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগে মেলা চালু করা হবে না। পরীক্ষায় ব্যাঘাত ঘটার মতো কিছুই করা হবে না। প্রতিবছরের মতো এবারও বাণিজ্য মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর সুনামগঞ্জে বাণিজ্য মেলা হয় নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিবছর সংশ্লিষ্ট চেম্বার অব কমার্সের মাধ্যমে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই ধারাবাহিকতায় এবার মেলা আয়োজনের অনুমতি পেয়েছি এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
আমাদের উদ্দেশ্য হলো দেশীয় পণ্যের প্রচার ও প্রসার ঘটানো। এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা চাই, মেলাটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে হোক। এখানে কোনো ধরনের অশ্লীল নাচ—গান বা সার্কাসের আয়োজন থাকবে না। পাশাপাশি, উচ্চ শব্দে গান—বাজনা না করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে মসজিদ—মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকাবাসীর কোনো অসুবিধা না হয়। রাত ১০টার পর মেলার কার্যক্রম বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এক মাসের মেলাকে বর্ধিত করার দায়িত্বও আমরা নেব না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন