প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:১৫
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় শহরের জগন্নাথ মন্দিরে শুভ মহালয়া উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুণীজন সম্মাননা প্রদান, স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, রচনা, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং অসহায় নারীদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। মহালয়া উদযাপন পরিষদ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যোগেশ্বর দাশ। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ ও মহালয়া উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনি কাঞ্চন দাস। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র গীতা পাঠ করেন দিঘি রানী দাশ পিয়ন্তি এবং পবিত্র চণ্ডী থেকে পাঠ করেন নিহারঞ্জন চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে ধুর্যটি কুমার বসু, অধ্যাপক পরিমল কান্তি দে, শিলা বসু ও রানো বালা আচার্যকে গুণীজন সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরে মহালয়া উপলক্ষে প্রকাশিত ‘শুভ মহালয়া’ নামের স্মারক গ্রন্থের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মহালয়া শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরাণ, পূর্বপুরুষের স্মৃতি, শক্তির আরাধনা এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। পিতৃপক্ষের শেষ দিনে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের উদ্দেশে তর্পণ করা হয়। একই সঙ্গে মহালয়া বাঙালির কাছে মা দুর্গার আগমনী বার্তা বহন করে।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সুনামগঞ্জ পৌরসভাসহ জেলার প্রতিটি উপজেলা ও পূজামণ্ডপে শান্তি—শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ পরিষ্কার রাখা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা, নিরাপদ বিদ্যুৎ সংযোগ, জেনারেটর, সিসিটিভি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও ব্যাকআপ লাইটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও প্রস্তুতি রাখতে হবে। পাশাপাশি ডিজে গান পরিহার করার আহ্বান জানানো হয়।
কোনো ধরনের গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্য, অপপ্রচার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই—বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার করা যাবে না। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে উত্তেজিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ধর্ম—বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রতি শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে হবে। একজনের আনন্দ যেন অন্যের অসুবিধার কারণ না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব বিমল বণিক এবং নিহারঞ্জন চক্রবর্তীসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় গুণীজন ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত রচনা, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী অন্যদেরও সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হয়। এরপর অসহায় ও দরিদ্র নারীদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। শেষে সভাপতি যোগেশ্বর দাশের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন