প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩১
সিলেটের গোয়াইনঘাটে বদরুল আলম (৩২) নামের ছাত্রদলের সাবেক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তার সঙ্গে থাকা সাদেক মিয়া নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ‘ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে’ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোরে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের গোরাগ্রাম মসজিদসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বদরুল আলম উপজেলার হাদারপার গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে। তিনি রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা করতেন বদরুল। রবিবার ফজরের নামাজের সময় তার সঙ্গে থাকা সাদেক মিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া ঘটনাস্থলে এগিয়ে যান। এসময় তুহিন ও শাহিন নামে দুজনকে সুলপি দিয়ে বদরুলকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে দেখেন। সোনা মিয়া বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা তার কথা শোনেনি বলে জানান তিনি। পরে সোনা মিয়া বদরুলের আত্মীয়—স্বজনদের খবর দিলে স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের সঙ্গে থাকা সাদেক জানান, বদরুল ও তিনি মনরতল বাজার থেকে হাদারপারে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। গোরাগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন তাদের পথরোধ করে টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বদরুল আলম বাধা দিলে হামলাকারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
নিহত বদরুলের বড় ভাই গোয়াইনঘাট উপজেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আখলাকুল আম্বিয়া। তিনি বলেন, ভোর পৌনে ৫টার দিকে বদরুলের সঙ্গে থাকা সাদেক আমার ছোট ভাই মাহবুবকে ফোন করে বাঁচানোর আকুতি জানায়। এরপর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করি। সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় মনরতল বাজার থেকে ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে ফেরার পথে মোটরসাইকেল আটকিয়ে গুরাগ্রামের শাহিন, তুহিন ও মামুনসহ কয়েকজন তার ভাইকে হত্যা করেছে।
এদিকে, খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বদরুল ও সাদেকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার পূর্বক জব্দ করেছে। ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, বদরুল ও সাদেকের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাদের ওপর হামলা চালনো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীর মাধ্যমে হামলাকারী একাধিক ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা জড়িত, তা তদন্ত চলছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন