প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৬
শাল্লায় সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন
শাল্লা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ—সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বক্তারা। একই সঙ্গে নিয়োগ স্থগিত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ও যোগ্য ব্যবসায়ীদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে হরতাল—অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারিও মানববন্ধনে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১টায় উপজেলার পুরাতন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে স্থানীয় সচেতন নাগরিক এর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শাল্লা ইউনিয়নের বাসিন্দা শহীদ মিয়ার পরিচালনায় মানববন্ধনে ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক হাসান মুন্না, সাবেক ছাত্রনেতা এইচ এম এরশাদ, শফি মিয়া, রাব্বুল হোসাইন ও ব্যবসায়ী বাবু মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের আড়ালে একটি মহল ডিও লেটারকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য করেছে। বক্তারা বলেন, সার ডিলার নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এ নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই অবিলম্বে নিয়োগ স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিল করে প্রকৃত ও যোগ্য ব্যবসায়ীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সার ডিলার নিয়োগ বাতিল করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নতুন করে নিয়োগের ব্যবস্থা না করা হলে হরতাল, অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে উঠা অভিযোগের বিষয়ে শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সুনামগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, মানববন্ধন করে করুক। এ বিষয়ে আমি কোনো কিছু বলতে পারব না। অন্যদিকে, সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, আমরা কাউকে সুপারিশ করে পাঠাইনি। আমরা তদন্ত করে যা পেয়েছি, জেলায় তাই পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবে।
মানববন্ধনে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন