প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৫৩
ছবি -সু.খবর
শাল্লা উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিটি পূজামণ্ডপে উৎসাহ—উদ্দীপনায় চলছে পূজা—অর্চনা ও ধমীর্য় নানা আয়োজন। এদিকে দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সরেজমিনে উপজেলার বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, উৎসবকে বর্ণিল করে তুলতে প্রবেশপথ, মন্দির ও আশপাশের প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে নানা নকশা ও আলোকসজ্জায়। অন্যদিকে, পূজার সার্বিক আয়োজন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যস্ত আয়োজকরা। পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আনাগোনাও শুরু হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে আয়োজকদের মধ্যে বিরাজ করছে বাড়তি উৎসাহ—উদ্দীপনা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে্যর পাশাপাশি আনন্দ—উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।
শাল্লা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন বলেন, এবার শাল্লা উপজেলায় মোট ৩১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৪টি সার্বজনীন এবং ১৭টি পারিবারিক মন্দিরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, সবার সহযোগিতায় সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে। তবে এবছর হাওরে বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানুষের মনে আনন্দ কিছুটা কম।
শাসখাই পঞ্চগ্রাম পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুধীর চন্দ্র দাস (মেম্বার) বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাই মিলে উৎসব উদযাপন করতে চাই। এ জন্য প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়ে শাল্লা থানার ওসি মো. সোহেল বলেন, শাল্লা উপজেলায় ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আমাদের মোবাইল টিম নিয়মিত বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং সরেজমিনে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের জন্য আলাদা করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সবগুলো পূজামণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সরকার ও সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ১ টন করে চাল প্রদান করা হয়েছে। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন