প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৩
ছবি -সু.খবর
শান্তিগঞ্জে পৈতৃক জমি জবরদখল করে পাকা বসত ঘর নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগে এবাদুল হক (৪০) নামের এক ব্যক্তি গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শান্তিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তারা জমিটি কিনে মালিক হয়েছেন। থানায় লিখিত অভিযোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘর নির্মাণ না করতে বিবাদী পক্ষকে বারণ করেছেন থানা পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের সৈদাবাদ মৌজায় বাবনিয়া গ্রামে। বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হলে এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় বলে অভিযোগকারী তার অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অভিযোগকারী এবাদুল হকের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তার বাবা ও ফুফুর মালিকানাধীন পৈতৃক সম্পত্তি। কিন্তু জুনাব আলীসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে জমিটি জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে স্থানীয় পাকা বসত ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও হামলার আশঙ্কার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এবাদুল হক বলেন, আমাদের বৈধ জায়গা তারা লাঠির জোরে জবরদখল করে রেখেছেন। আমরা ওই জায়গায় গেলে তারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আক্রমণ করেন। তাদের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পাশের গ্রামে বসতি গড়েছি। অথচ নিজের জায়গায় যেতে পারছি না। এখন সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করছেন তারা। এ কারণে থানায় অভিযোগ করেছি।
তবে অভিযুক্ত সাইদুল হক ও তার মা রাফিকুল নেছা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার স্বামী জমিটি কিনে মালিক হয়েছেন। নিজেদের কেনা জমিতে ঘর বাড়ি নির্মাণ করছেন। কিন্তু এবাদুল হক তাদের কাজে বাধা দিচ্ছেন। জমি ক্রয়ের দলিল আছে কি না জানতে চাইলে তারা বলেন, জমিসংক্রান্ত সব কাগজপত্র আদালতে রয়েছে।
এদিকে বাবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিল মিয়া বলেন, জমিটির প্রকৃত মালিক এবাদুল হকের বাবা ও তার ফুফু। জুনাব আলী গং জোরপূর্বক জমিটি দখল করে ভোগ করছেন। তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বলে দাবি করেন তিনি।
শান্তিগঞ্জ থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) টিপু সুলতান বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাদের বৈধকাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেছি। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল্লাহ অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন