প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৫৯
লালন সাঁই’র ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত
ছবি -সু.খবর
বাউল সাধক লালন সাঁই’র ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে স্মরণ অনুষ্ঠান হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছনরাজা মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আহমেদ মনজুরুল হক চৌধুরী পাভেলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমান, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এনায়েত রহিম ফাহিম, সাবেক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, গবেষক ও লেখক সুভাষ চন্দ্র দাস এবং সাংবাদিক লতিফুর রহমান রাজু।
বক্তারা বলেন, লালন সাঁই কেবল একজন বাউল শিল্পী নন, তিনি ছিলেন একজন মহান মানবতাবাদী দার্শনিক। তাঁর প্রতিটি সুর ও গানে ধ্বনিত হয়েছে মানুষের মুক্তির বার্তা। লালন আমাদের চিরন্তন এই সত্য শিখিয়েছেন যে, মানবসত্তার চেয়ে বড় ও শ্রেষ্ঠ আর কিছুই হতে পারে না। আজকের সমাজে লালন সাঁই’র দর্শন পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। লালন দর্শনের মূল সুর হলো— তিনি সারা জীবন জাত—পাতের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন— ‘জাত গেল জাত গেল বলে’। এই অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বোধটিই আমাদের নতুন প্রজন্মকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। লালনের দর্শন মূলত আত্ম—অন্বেষণের দর্শন। তিনি বাহিরের আড়ম্বরের চেয়ে মানুষের ভেতরের খাঁটি মানুষকে খোঁজার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর প্রতিটি গান একেকটি গভীর জীবনবোধের বহিঃপ্রকাশ। লালনকে বুঝতে হলে কেবল সুর বা বাণী মুখস্থ করলে চলবে না, তাকে বুঝতে হবে হৃদয় ও অনুভূতির গভীরতা দিয়ে।
.png)
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, লালনের গানের ভেতরে লুকিয়ে আছে সাধারণ মানুষের মনের আসল মর্মকথা। তাঁর রচিত গান যুগ যুগ ধরে গ্রাম থেকে শহর, এমনকি দেশ পেরিয়ে বিদেশেও মানুষকে সত্য ও আলোর পথ দেখিয়ে আসছে। তাই লালন সাঁই’র এই সার্বজনীন চেতনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে বাঁচিয়ে রাখতে এবং ছড়িয়ে দিতে স্কুল—কলেজ পর্যায়ে নিয়মিত লালন চর্চা ও গবেষণার পরিধি বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনা সভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্কুল—কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাউল শিল্পীরা ফকির লালন শাহের জনপ্রিয় ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘জাত গেল জাত গেল বলে’ সহ বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন