প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০১
ছবি -সু.খবর
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীতে সুনামগঞ্জ জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। জেলার পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় অতিথি হিসেবে কথা বলেছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. গৌরাঙ্গ পদ দাশ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও ডিজিটাল ইনচার্জ সাইদুর রহমান আসাদ।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীতে সুনামগঞ্জের পূজামণ্ডপগুলোতে আয়োজন চলছে। সার্বিক প্রস্তুতি কেমন?
গৌরাঙ্গ পদ দাশ: এবার জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে সুন্দরভাবে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আমরা পাইনি। পূজা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ে মতবিনিময় সভা করেছি। পূজামণ্ডপের কমিটিগুলোকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আমাদের সঙ্গে একাধিকবার সভা করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপের কমিটিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রায় সব পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপ কমিটির নিজস্ব পাহারাদার, আনসার এবং বড় মণ্ডপগুলোতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সীমান্তবর্তী ৪২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
গৌরাঙ্গ পদ দাশ: সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোতে বিজিবির দায়িত্ব পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে বিজিবি মোতায়েন করায় আমরা পুলিশ প্রশাসন ও বিজিবিকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, তাদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতেও সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: পূজামণ্ডপের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী, পুলিশ, প্রশাসন ও বিজিবির মধ্যে সমন্বয় কেমন দেখছেন?
গৌরাঙ্গ পদ দাশ: এবারের নিরাপত্তাব্যবস্থায় সমন্বয় আগের তুলনায় আরও গতিশীল বলে মনে হচ্ছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের কমিটি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে। উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলো তাদের সহযোগিতা করছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রশাসনের সঙ্গেও আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সব মিলিয়ে নিরাপত্তার বিষয়ে সমন্বয় ভালো রয়েছে বলে আমরা মনে করি।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: পূজা নির্বিঘ্ন করতে কোনো ধরনের শঙ্কা বা চ্যালেঞ্জ দেখছেন কি?
গৌরাঙ্গ পদ দাশ: এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বড় ধরনের শঙ্কা দেখছি না। সুনামগঞ্জ একটি অসাম্প্রদায়িক জেলা। অতীতেও এখানে আমরা বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলার সম্মুখীন হইনি। এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী। তবে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। পূজামণ্ডপের কমিটি ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবার কী করণীয় বলে মনে করেন?
গৌরাঙ্গ পদ দাশ: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা পূজামণ্ডপের আশপাশের প্রতিবেশী, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিদের পূজায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছি। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও আমরা সমন্বয় করে কাজ করছি। আমরা চাই, সবাই মিলে উৎসব উদযাপন করব এবং একে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রশাসন ও জেলাবাসীর প্রতি কী আহ্বান জানাবেন?
গৌরাঙ্গ পদ দাশ: শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি কৃষ্টি, ঐতিহ্য, ঐক্য ও অসাম্প্রদায়িক মেলবন্ধনেরও উৎসব। আমরা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মায়ের পূজা করব এবং আমাদের পাড়া—প্রতিবেশীসহ অন্য ধর্মের মানুষকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাব।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন