প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৯
২০২৭ সালের পৌর নির্বাচন সামনে রেখে সুনামগঞ্জের চার পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। বিএনপির একাধিক নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে প্রার্থী বাছাইয়ে ত্যাগ, সততা, জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’এর সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় এসব বিষয়ে কথা বলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাহাঙ্গীর আলম।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জ পৌরসভাসহ জেলার চারটি পৌরসভায় বিএনপির একাধিক নেতা মেয়র প্রার্থী হতে চান। দলীয় মনোনয়ন কীভাবে নির্ধারণ করা হবে?
অ্যাড. মো. আব্দুল হক: একাধিক প্রার্থী হওয়া স্বাভাবিক। গত ১৭ বছরে বিএনপি সমর্থিত অনেক নেতা—কর্মী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান নি। তাঁদের মধ্যে অনেকেই মেয়র হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। এ কারণে বিভিন্ন পৌরসভায় একাধিক নেতা গণসংযোগ করছেন এবং দলের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
আমাদের হাইকমান্ডের নির্দেশনা হলো, দলীয়ভাবে একজনকে সমর্থন দেওয়া হবে। অন্যদের নির্বাচন না করার জন্য অনুরোধ করা হবে, যাতে দলে কোনো গ্রুপিং তৈরি না হয়। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করব।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতা, জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনাÑকোন বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে?
মো. আব্দুল হক: যাঁরা দীর্ঘ ১৭ বছর দলের আন্দোলন—সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের ত্যাগ বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচিতি, জনপ্রিয়তা ও সততাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। শুধু দলের মধ্যে ভূমিকা থাকলেই হবে না, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতাও থাকতে হবে।
রাজনীতি ও নির্বাচন এক বিষয় নয়। অনেক সময় জনপ্রিয়তার কারণে একজন প্রার্থী মনোনয়ন পান। তাই ত্যাগের পাশাপাশি সততা, যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা জরুরি।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জ পৌরসভায় একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের মতামত কতটা গুরুত্ব পাবে?
মো. আব্দুল হক: স্থানীয় নেতাদের মতামত অবশ্যই গুরুত্ব পাবে। যাঁরা মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ করছেন এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কে খেঁাজখবর নেওয়া হচ্ছে। কে কতটা জনপ্রিয় এবং কাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তা বিবেচনা করা হবে।
দলের উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি দলের মনোনীত সংসদ সদস্যরাও খেঁাজখবর নিচ্ছেন। সব দিক বিবেচনা করেই প্রার্থী বাছাই করা হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: জগন্নাথপুর প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। সেখানে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের অনেকেই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁদের অংশগ্রহণকে কীভাবে দেখছেন?
মো. আব্দুল হক: প্রবাসীরা রাজনীতিতে অংশ নেবেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। অতীতেও অনেক প্রবাসী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে শুধু দলীয় সমর্থন বা প্রতীক পেলেই পৌর নির্বাচনে জয়ী হওয়া সহজ হবে না।
প্রার্থী প্রবাসী হলেও তাঁর সঙ্গে স্থানীয় জনগণের নিয়মিত যোগাযোগ থাকতে হবে। তিনি এলাকায় আসেন কি না, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন এবং জনকল্যাণে ভূমিকা রাখছেন কি নাÑএসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সৎ, যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী হলে তিনি প্রবাসী হওয়াটা বাধা নয়।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ছাতক ও দিরাইসহ বিভিন্ন পৌরসভায় বিএনপির একাধিক নেতা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। দলীয় কোন্দল এড়াতে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে?
মো. আব্দুল হক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিভিন্ন আসনে চার—পাঁচজন বা তারও বেশি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাতে বড় ধরনের দলীয় কোন্দল হয়নি। পৌর নির্বাচনেও একইভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।
আমাদের প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভাবলে চলবে না। একজনকে সমর্থন দেওয়ার পর অন্য সবাইকে তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। হাইকমান্ডের নির্দেশনাও সেটিই।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র ও নেতাদেরও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কী?
মো. আব্দুল হক: কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের বিষয়ে আইনগত অবস্থান কী, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। আমার বক্তব্য হলো, যে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে, সেই দলের পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রশ্ন আসে না। তবে নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবেন, তা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধানের আলোকে নির্ধারিত হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: পৌরসভাগুলোর কার্যক্রম বর্তমানে প্রশাসকদের মাধ্যমে চলছে। নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে আর দেরি হওয়া উচিত কি?
মো. আব্দুল হক: মোটেই না। একটি পৌরসভায় মেয়রের পাশাপাশি কাউন্সিলররা থাকেন। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকেন এবং এলাকার সমস্যা সম্পর্কে জানেন।
একজন প্রশাসকের পক্ষে প্রতিটি পাড়া—মহল্লার সমস্যা, কোথায় রাস্তা প্রয়োজন, কোথায় দরিদ্র মানুষ সহায়তা চান কিংবা কোন কাজটি জরুরিÑসবকিছু স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মতো জানা সম্ভব নয়। তাই নির্বাচন দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় পৌরসভাগুলোতে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করেন?
মো. আব্দুল হক: নাগরিকেরা বিভিন্ন সুযোগ—সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রাস্তাঘাট, কালভার্ট, পয়োনিষ্কাশনসহ ছোট—বড় নানা সমস্যা রয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় এসব সমস্যার সমাধান ব্যাহত হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হলে স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রয়োজন।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: চার পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের প্রতি আপনার বার্তা কী? দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সবাই কি একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন?
মো. আব্দুল হক: যাঁরা প্রার্থী হতে চান, তাঁরা দলের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করবেন। একাধিক প্রার্থীর মধ্যে একজনই শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন পাবেনÑএটি সবাইকে মেনে নিতে হবে। মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে দলীয় সিদ্ধান্তের পর ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।
যাঁরা দলকে ভালোবাসেন এবং দলের আদর্শ ধারণ করেন, তাঁদের উচিত হবে দল যাঁকে সমর্থন দেবে, তাঁর পক্ষে কাজ করা এবং তাঁকে বিজয়ী করতে সহযোগিতা করা। দলের স্বার্থে সবাইকে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন