প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫৩
দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা নদীর আলিপুর—টেংরাটিলা এলাকায় প্রায় ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিনেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয় নি। সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি কার্যত কোনো কাজে আসছে না। উল্টো সেতু পারাপার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্টিলের পাটাতন ও মই বেয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে। আবার অপর পাশে একইভাবে ঝুঁকি নিয়ে নামতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বয়স্ক মানুষ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
দোয়ারাবাজার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ৫০০ মিটার চেইনেজে ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আলিপুর—টেংরাটিলা খেয়াঘাটে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় পাঁচ বছর হতে চললেও এখনো সেতুটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই নির্মাণকাজে ধীরগতি ছিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যথাযথ তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টেংরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথে আলিপুর—টেংরাটিলা এলাকায় খাসিয়ামারা নদীর উপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন স্টিলের পাটাতন ও মই বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী। এছাড়া স্থানীয় হাটবাজার, উপজেলা সদর ও জেলা শহরে বিভিন্ন কাজে যাতায়াতকারী নদীর দুই পাড়ের অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে একইভাবে সেতু পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, সেতু এখন উল্টো বিড়ম্বনার কারণ হয়েছে। স্টিলের মই ও পাটাতন বেয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে, আবার একইভাবে নিচে নামতে হচ্ছে। বয়স্ক মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, আগে নদী পারাপারে দুই পাড়ের মানুষ খেয়া নৌকা ব্যবহার করতেন। নৌকায় মালপত্র, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেলও পার করা যেত। সেতু নির্মাণের পর নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় এখন প্রায় ২০ ফুট উঁচু সেতুতে অস্থায়ী মই ও পাটাতন বেয়ে উঠানামা করতে হচ্ছে।
জামাল উদ্দিনসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেতুটির নির্মাণকাজ চললেও এখনো সংযোগ সড়ক করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাব ও কাজে অবহেলার কারণে মানুষের দুর্ভোগের শেষ হচ্ছে না।
দোয়ারাবাজার এলজিইডির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনায় সেতুর কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। কাজ বন্ধ না থাকলে আরও দুই বছর আগেই সেতুর কাজ শেষ হয়ে যেত।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদার শংকর বাবুর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী চার—পাঁচ মাসের মধ্যে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন