প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩৯
জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) মো. আরিফুর রহমান শান্তকে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ রোববার বিকেলে ওই কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মুজিবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল।
এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান বর্তমানে ঢাকার পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। শনিবার বিকেলে সিলেট থেকে তাঁর স্ত্রী ও উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মী তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান।
আরিফুর রহমান তাঁর দপ্তরিক ফেসবুক পেজে শুক্রবার রাত সোয়া দশটার দিকে পরপর দুটি পোস্ট করেন। এতে লেখা ছিল' ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ ও ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’। ফেসবুকে এমন পোস্ট দেখে পুলিশসহ অন্যরা ছুটে যান তাঁর বাসায়। এরপর গভীর রাতে জামালগঞ্জ থেকে তাঁকে নেওয়া হয় সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পরে রাতেই নেওয়া হয় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর স্ত্রী ও অন্যরা শনিবার বিকেলে ঢাকায় নিয়ে যান।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান জানান, তাঁরা নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর রাখছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের ভাষ্য , এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানের আগে থেকেই মানসিক সমস্যা ছিল বলে তাঁরা জানতে পেরে়ছেন। চিকিৎসক বলেছেন, এই রোগকে সিজোফ্রেনিয়া বলে।
আরিফুর রহমান প্রায় দুই মাস হয় জামালগঞ্জে এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরে থাকতেন।
ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক জানান, শুক্রবার ইউএনওর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিন ছিল। রাতে কেক কাটার আয়োজনে এসিল্যান্ড স্ত্রীসহ তাঁর (ইউএনও) বাসায় উপস্থিত হন। এরপর বাসা থেকে বের হয়েই সোয়া দশটার দিকে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেন। পোস্ট দেখে অনেকেই এসিল্যান্ডের বাসায় যান। পুলিশও আসে। এর আগে তিনি সেখানে থাকা আনসার সদস্যকে মারধর করেন। ঘরের টেবিলের গ্লাস ভাঙেন।
বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। পরিচিত লোকজকেও তিনি চিনতে পারছিলেন না। তখন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকও আসেন। এসিল্যান্ডের স্ত্রী দুটি ইনজেকশনের কথা বলেন। কিন্তু সেগুলো পাওয়া যায়নি। পরে তাঁকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর পরও তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানের স্ত্রীর বরাতে ইউএনও জানতে পেরেছেন, আরিফুরের মানসিক সমস্যা আগে থেকেই। এ ছাড়া তিন দিন আগে জামালগঞ্জে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নদীতে ওই শিশুর লাশ দেখার পর থেকেই নাকি তিনি ট্রমাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
ইউএনওর ভাষ্য, প্রথমে জানতে পারি এসিল্যান্ডের মোবাইল হ্যাক হয়েছে। পরে তাঁর স্ত্রী বলেন, মোবাইল হ্যাক হয়নি, পোস্টগুলো এসিল্যান্ডই করেছেন। পরে তাঁর স্ত্রী সেগুলো মুছে ফেলেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন