ভোটের হাওয়ায় মাঠে ২৭ মেয়র প্রার্থী

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫৬

লম্বা ছুটিতে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলার চার পৌরসভার সম্ভাব্য ২৭ মেয়র প্রার্থী। কেউ কেউ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধমীর্য় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা ও গণসংযোগের মাধ্যমেও নিজেদের প্রার্থীতা জানিয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে কৌশলে আছেন প্রচারণায়। তাতে সামনের (২০২৭ ইংরেজির) পৌর নির্বাচন নিয়ে সরব আলোচনা এই চার পৌরসভার পাড়া মহল্লায়। চার পৌরসভার মধ্যে প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সকলেই যুক্তরাজ্য প্রবাসী।

 


সুনামগঞ্জ পৌরসভায় এবার মোট ভোটার ৫২ হাজার ৮৮১। এরমধ্যে পুরুষ ২৫ হাজার ৯৬৯ জন, মহিলা ২৬ হাজার ৯০৮  এবং হিজড়া ভোটার আছেন চার জন। এই পৌরসভায় পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি পৌর নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল। মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। 

 


সামনের পৌর নির্বাচনে এখানে ভোটে লড়তে সক্রিয় হয়েছেন— হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান গণিউল সালাদীন, জেলা জাসাসের সভাপতি অব. অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোর্শেদ আলম, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নোমান, প্রয়াত মন্ত্রী ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ছেলে ইনান চৌধুরী ও যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু। 
শেরগুল আহমদ বিএনপি’র দলীয় সমর্থন পেলে প্রার্থী হতে চান। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেছেন, বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেবে, সেটি নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর মতে দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তেই কেবল প্রার্থীতা চূড়ান্ত হবে— এমনটা নয়। অতীতের কার্যক্রম মূল্যায়ন, নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, কাকে দিলে দলের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হবে, এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেেই দলীয় সমর্থন নির্ধারণ হবে বলে মন্তব্য করেন শেরগুল। বললেন, আমি দুঃসময়ে নির্বাচন করেছি। আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। দল এসব বিষয় আশা করছি বিবেচনায় নেবে এবং আমি দলীয় সমর্থন পাবো।
দেওয়ান গণিউল সালাদীন নির্বাচনী গণসংযোগে আছেন দুই বছর ধরেই। এলাকায় এলাকায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাজও করছেন জানিয়ে বললেন, বিগত সরকারের সময়কালে ভোটে লড়েছি। আমার বিজয় প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এবার ভোটে লড়ার সকল প্রস্তুতি নিচ্ছি। এলাকায় এলাকায় ভোটাররাই আমার পক্ষে কাজে নেমেছেন। দেখা যাক নির্বাচন কীভাবে হয়, কোন ফরমেটে হয়, ভোটের দিন ঘনিয়ে আসুক, তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কীভাবে অংশ নেব।

 


পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল নোমান বললেন, বিপুল ভোটের ব্যবধানে দুইবার কাউন্সিলর হয়েছি। দলের দুর্দিনে ১৭ বছর মাঠে আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম। ছাত্রদলের কর্মী থেকে এখন পর্যন্ত দল এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গেই আছি। ভোটের প্রচারণা অনেক আগে থেকে শুরু করেছি। দলীয় সমর্থন পাবার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী আমি।
দলের দুঃসময়ে ধানের শীষ নিয়ে ভোটে লড়েছেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোর্শেদ আলম। বললেন, যখন কেউ দলের প্রার্থী হন নি, দলের প্রতীক নিয়ে লড়তে চান নি। আমি তখন দলের মার্কা ধানের শীষ নিয়ে ভোটারের কাছে গিয়েছি। দলের নিবেদিত কর্মীরা আমার সঙ্গে ছিলেন। এবারও দলের কর্মীরা ভোটে অংশ নেবার কথা বলছেন। আমি বলেছি, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমার ব্যক্তিগত কোন মত নেই।
যুবদল নেতা কামরুল হাসান রাজু বললেন, দল এবং মানুষের জন্য কাজ করছি। আমার নেতা সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই পালন করবো। ভোটে লড়বো কী—না, তিনিই সিদ্ধান্ত দেবেন।

 


সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ইকবাল হোসেন চৌধুরী ও সাবেক এমপি মমতাজ ইকবালের পুত্র ইনান চৌধুরীও জোরে—শোরে নেমেছেন ভোটের মাঠে। ইনান চৌধুরী ইতোপূর্বে তাঁর নিজের মহল্লা আরপিননগরবাসীকে নিয়ে বৈঠক করে বলেছেন, আমি বাবা ও মা’র মতোই আপনাদের পাশে থেকে মানুষের কাজ করতে চাই। আমাকে সহযোগিতা করলে আপনাদের ভোটের মর্যাদা রক্ষা করবো। শারদীয় দুর্গোৎসবে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, ফেস্টুন সাঁটিয়ে নিজের প্রার্থীতা জানান দিয়েছেন ইনান চৌধুরী।

 


সকল প্রার্থী যেখানে লন্ডনি
ভোটার সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর পৌরসভা। এখানকার বেশিরভাগ ভোটার যুক্তরাজ্য প্রবাসী। ভোটার আছেন ৩৫ হাজার ৪১১ জন। পুরুষ ১৭ হাজার ৬৯২ এবং নারী ভোটার ১৭ হাজার ৭১৭ জন। হিজড়া দুই জন। ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি এই পৌরসভার নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল। মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। 

 


এখানে ভোটে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাত যুক্তরাজ্য প্রবাসী। এরা হলেন— উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী এমএ কাদির, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুজাতুর রেজা, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সেক্রেটারী আবুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান চৌধুরী, সাবেক প্রয়াত মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মনাফের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সেলিম আহমদ, বিএনপি নেতা আছকির মিয়া এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গ্রীণ সিগন্যাল পেলে বা নির্বাচন করার পরিবেশ থাকলে— সাবেক পৌর চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রশিদ ভুইয়াও ভোটে লড়বেন বলে জানা গেছে।

 

 


শিল্প শহর হিসেবে পরিচিত ছাতক পৌরসভায় ভোটার আছেন ৩৪ হাজার ৭০১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১৭ হাজার ৪১৪, নারী ১৭ হাজার ২৮৭ জন। এই পৌরসভায় পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি পৌর নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল। মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। 
মেয়র প্রার্থী হতে চাইছেন ছয় জন। এরা হলেন— জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আম্বিয়া মাজকুর পাভেল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শামছুর রহমান শামছু, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন সালমান।

 


অংশ নেবার সুযোগ পেলে— কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও আব্দুল ওয়াহিদ মজনু ভোটে লড়তে পারেন বলে তাঁদের সমর্থকরা জানিয়েছেন।
দিরাই পৌরসভায় মোট ভোটার ২৫ হাজার ৪৬৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৬৩৯ এবং নারী ১২ হাজার ৮২৮ জন। ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি এই পৌরসভা নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল। মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ শেষ হয়েছে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। 

 


এখানে সাত প্রার্থী নানাভাবে ভোটের প্রচারণায় আছেন। এরা হলেন— সাবেক ছাত্রদল নেতা স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী রুদ্র মিজান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন চৌধুরী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা আবুল হাসনাত রিপন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাঈদুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক পৌর মেয়র বিএনপি নেতা আহমদ মিয়ার ছেলে আজমল হোসেন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা সাবেক মেয়র বিশ^জিত রায় এবং মোশারফ মিয়া।

 


২০২৪ সালের পাঁচ আগস্টে গণ অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন হলে ১৯ আগস্ট ওই সময়ের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ওই সময়ে মেয়র ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাদের বখ্ত। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের অন্যান্য পৌরসভার মতো তাঁকেও অপসারণ করে। আগামী পৌর নির্বাচনে আইনগত কোন বাধা না থাকলে তিনিও ভোটে লড়বেন বলে তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

 


সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাড. আব্দুল হক বললেন, পৌর নির্বাচনে দলীয় সমর্থন দেওয়া নিয়ে কাজ শুরু করেছে দল। নানা সংস্থার মাধ্যমেও খেঁাজ খবর নেওয়া হচ্ছে। দলের জন্য নিবেদিত, যোগ্য—সৎ আবার জনগণ ভোট দেবে এমন প্রার্থী খেঁাজা হচ্ছে। দলীয় সমর্থন যিনি পাবেন, তাঁর পক্ষেই সকলকে থাকতে হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিয়া বললেন, সুনামগঞ্জের পৌরসভা নির্বাচনের মেয়াদ শেষ। প্রশাসক কাজ চালাচ্ছেন। আমরা ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র— ভোটকক্ষ প্রস্তুতসহ সকল কাজ শেষ করে রেখেছি। কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কাজ শুরু করেছেন। আমাদের ধারণা ইউপি নির্বাচন শেষ হলেই পৌরসভা ভোট হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার