প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪১
সংগৃহীত ছবি
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, মানুষে মানুষে আমরা কোনো ভেদাভেদ দেখি না। কারণ আমাদের সংবিধান এ বলা আছে, সব নাগরিকই আইনের দৃষ্টিতে সমান। সবারই সমান ভোটাধিকার, সমান বাঁচার অধিকার, সমান আইনের অধিকার এবং একইভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার অধিকার আছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে বান্দরবানের স্থানীয় রাজারমাঠে মারমাদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ (প্রবারণা) উৎসবের তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বান্দরবান সেনা রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা ও পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সমতল সমতল নয়। সমতলও উঁচু আছে নিচু আছে। সমতলও ভয়ংকর দেশবিরোধী চক্র আছে এবং দেশপ্রেমিক মানুষ আছে। অতএব সমতল যে সমতল এটা ঠিক নয়। পাহাড় সমতল এক করে আমাদের একটি অভিন্ন জাতি এবং বাংলাদেশি জাতি, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ সেটি আমরা প্রমাণ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, কোনো মানুষই ক্ষুদ্র নয়। এখানে আমাদের মধ্যে কে ক্ষুদ্র, কে বিরল, কে মানুষ এবং কে মানুষ না এটা বড় কথা নয়। মানুষের মধ্যে মানুষ চাই এবং সব মানুষকে আমরা দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের জাতি, আমাদের জাতিসত্তা, আমাদের দেশপ্রেম হচ্ছে আমাদের স্বপ্ন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা।
মন্ত্রী বলেন, এখানে যে ১২টি জাতি গোষ্ঠী, জাতি সত্তা আজকে মিলিত হয়েছে, এরকম এইভাবে ৫২টি জাতি গোষ্ঠী, জাতি সত্তা নিয়ে আমাদের এ বাংলাদেশ। রংধনু যেমন সাতটি রং আছে এবং সাত রং মিলে একটি রং সেটা হলো রংধনু। ঠিক তেমনি আমরা যত জাতিসত্তা আছি সব মিলে আমরা একটা জাতি।
তিনি বলেন, এ জাতির ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে, সংস্কৃতি আছে। ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে আমরাই পারব লক্ষ্যে পৌঁছাতে। কারণ আমরা একটি বিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপ বাংলাদেশকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গড়ার চেষ্টা করছি, চলেছি নিরন্তর।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ভেতরে ষড়যন্ত্র থাকবে। ষড়যন্ত্রকারীরা হচ্ছে অন্ধকারের বাদুড়ের মতো। এরা কখনো আলোর মুখ দেখে না, আলোর মুখ দেখবেও না। অতএব আমাদের পাহাড় এবং সমতলের জনগণ কখনো এটাকে এটি নিয়ে ভীত না।
এর আগে উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে স্থানীয় রাজারমাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এর পাশাপাশি পিঠা তৈরি উৎসব এবং গৌতম বুদ্ধের স্মরণে রঙিন ফানুস ওড়ানো হয়।
সূত্র:কালবেলা .কম
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন