প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:০৫
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে। দিবস উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা এবং পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ চারজন শ্রেষ্ঠ চালককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সুনামগঞ্জ সার্কেলের উদ্যোগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি র্যালি বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
.jpg)
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও বিআরটিএ সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসিব ইসলাম হিমেল’র সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. রনবীর তালুকদার রক্তিম।
এছাড়াও বক্তব্য দেন বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া, জেলা বাস—মিনিবাস—কোচ—মাইক্রোবাস ¤্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ, সাংবাদিক মুহাম্মদ আমিনুল হক, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সহসভাপতি ওবায়দুল হক মিলন, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভাপতি ফয়জুনূর এবং হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমেদ।
.jpg)
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু চালকদের সচেতনতা যথেষ্ট নয়; চালক, যাত্রী, পথচারী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, ওভারটেকিংয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং গাড়ি চালানোর সময় পূর্ণ মনোযোগ বজায় রাখা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক ও দায়িত্বহীন আচরণ। চালকের সামান্য অসতর্কতাও প্রাণহানি ও অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই গাড়ি চালানোর সময় মাদক গ্রহণ ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের মতো মনোযোগ বিঘ্নিতকারী বিষয় থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও মোড় চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
সভায় বক্তারা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পরিবহন খাতে পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পরিবহন মালিক—শ্রমিক এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
আলোচনা সভা শেষে পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও নিরাপদে যানবাহন পরিচালনার স্বীকৃতিস্বরূপ চারজন শ্রেষ্ঠ চালককে সনদপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন—দোয়ারাবাজার উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের নিখিল নাথ, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়া গ্রামের মো. আনহার মিয়া, ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জের আবদুল আউয়াল এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের শামিম আহমেদ চৌধুরী।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, শ্রেষ্ঠ চালকদের এ সম্মাননা পরিবহন খাতে পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্য চালকদেরও নিরাপদে যানবাহন পরিচালনায় উৎসাহিত করবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন