প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৭
তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে শুরু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬—২০২৭ (সিজন—২)’। তবে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের আটটিতে প্রথম দিন বাছাই কার্যক্রম শুরু হয় নি। নির্দেশনার অভাব ও সমন্বয়হীনতায় নির্ধারিত মাঠে গিয়েও খেলায় অংশ নিতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতির কারণ, বাছাই কার্যক্রমের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পত্রিকাটির সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে প্রথম দিন বাছাই কার্যক্রম শুরু না হওয়ার মূল কারণ কী?
মো. সোহাগ মিয়া: বাছাই কার্যক্রমের সময়সীমা ২৭ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে কেন্দ্র থেকে নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের ২৭ অক্টোবর সকাল ৯টায় উপস্থিত থাকার বার্তা পাঠানো হয়। ২৬ অক্টোবর বিকেলে বার্তাটি আসায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ইউনিয়ন কমিটিগুলো প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায় নি। এ কারণে কিছু জায়গায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সদস্য সচিবদের অভিযোগ, তাঁরা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও চিঠিপত্র পাননি। সমন্বয়ের ঘাটতির দায় কার?
মো. সোহাগ মিয়া: সব ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কমিটিতে একই বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে যোগাযোগের ঘাটতির কারণে কেউ কেউ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেননি। এ সমস্যা দূর করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করেছি এবং বাছাইয়ের নিয়ম ও সময়সূচি বুঝিয়ে দিয়েছি।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: মাঠে গিয়েও শিক্ষার্থীদের ফিরে আসতে হয়েছে। তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এখন কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
মো. সোহাগ মিয়া: প্রতিটি ইউনিয়নকে ইভেন্টভিত্তিক সময়সূচি তৈরি করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের স্কুলের মাধ্যমে সময়সূচি জানাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নে বাছাই শুরু হয়েছে। আশাকরছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব ইউনিয়নে কার্যক্রম শেষ হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ২ নভেম্বরের মধ্যে বাছাই ও দল গঠনের কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে কি?
মো. সোহাগ মিয়া: অবশ্যই সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য পহেলা নভেম্বরের মধ্যে বাছাই কার্যক্রম শেষ করা। ২ নভেম্বর তালিকা সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: জেলায় ১৮ হাজার ৪৫০ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করেছে। ১০টি ইভেন্টে দল গঠন ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই কতটা সম্ভব?
মো. সোহাগ মিয়া: ১০টি ইভেন্টের মধ্যে ফুটবলে নিবন্ধন বেশি। তাই এ ইভেন্টে বাছাই কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্য ইভেন্টে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে বাছাই হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে আবেদনকারী কম থাকলে নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ভবিষ্যতে এমন সমন্বয়হীনতা এড়াতে এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
মো. সোহাগ মিয়া: এবার প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আগেভাগেই ইউনিয়ন কমিটিগুলোকে প্রস্তুতি, সময়সূচি ও দায়িত্ব সম্পর্কে জানানো হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে দল গঠন করা হবে। আগামী মৌসুমে এ ধরনের সমস্যা কমে আসবে বলে আশা করছি।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: গত মৌসুমে সুনামগঞ্জের খেলোয়াড়দের সাফল্য ছিল। এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন?
মো. সোহাগ মিয়া: গত মৌসুমে সুনামগঞ্জের ফুটবল দল বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয়। সুনামগঞ্জের ছয়জন খেলোয়াড় সিলেট অঞ্চলের দলে ছিল। ফুটবলে সিলেট অঞ্চল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি সুনামগঞ্জের কয়েকজন খেলোয়াড় বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছে। এবারও আগের সাফল্য ধরে রাখতে আরও সুশৃঙ্খলভাবে ও দক্ষ খেলোয়াড় নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন