প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৪
নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা এই সরকারের প্রতিভা অন্বেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ উদ্যোগ। সারা দেশের বিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন ইভেন্টের সেরা খুদে প্রতিভাধরদের খুঁজে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণে যুক্ত করে দেশের জন্য প্রতিনিধিত্বকারী ক্রিড়াবিদ তৈরি করা এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। জাতীয় নারী ফুটবল দল এখন দেশে—বিদেশে যে নৈপুণ্য দেখাচ্ছে, তার পিছনে বড় অবদান স্কুল পর্যায় থেকে খুদে ফুটবলারদের বের করে এনে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা। বলাবাহুল্য বিশাল বাংলাদেশের আঠারো কোটি জনসংখ্যার মধ্যে নিপুণ খেলোয়াড়ের কোনো অভাব নেই। অভাব রয়েছে এদের নৈপুণ্য প্রকাশ করার উপযুক্ত পরিবেশের। সুযোগ ও উপযুক্ত পরিচর্যার অভাবে বহু কঁুড়ি ফুল হয়ে ফুটার সুযোগ পায় না, অকালে ঝরে যায়। এই অকাল ঝরে পড়া রোধ করে সর্বোচ্চ মেধাবী ক্রিড়াবিদকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এনে দেশ ও জাতির সুনাম বর্ধিত করার জন্যই সরকার সারা দেশে একযোগে শুরু করেছেন নতুন কঁুড়ি প্রতিযোগিতা। গতকাল ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টের দল গঠনের কথা ছিলো। এ লক্ষ্যে ইউনিয়নের নির্ধারিত জায়গায় হাজির হন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, সদর উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে এ দিন চরম উদ্যোগহীনতা দৃশ্যমান ছিলো। আয়োজকদের দেখা না পেয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের ট্রায়াল না দিয়েই ফিরে আসতে হয়েছে। প্রতিযোগিতা শুরুর একেবারে প্রথম ধাপে আয়োজকদের এমন অমনোযোগিতা ও পরিকল্পনাহীনতা আমাদের বিস্মিত করেছে। বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা সত্ত্বেও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রথম ট্রায়াল কেন পরিকল্পনামাফিক করা গেলো না এটি একটি বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে। একটি সুন্দর আয়োজন কী করে শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে পড়তে পারে এই ঘটনা তার প্রমাণ।
এদিন অ্যাথলেটিক্স, কাবাডি, ক্রিকেট, টেবিলটেনিস, দাবা, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, মার্শালআর্ট ও সাঁতার এই ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগী বাছাই করার কথা ছিলো। কিন্তু আয়োজকদের সমন্বয়হীনতার কারণে অধিকাংশ ইউনিয়নে প্রথম পর্বের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি শুরুই করা গেলো না। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাঁদের খেলোয়াড়—শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছিলো, তাঁরা সে মোতাবেক উপস্থিত হয়েছেনও; কিন্তু যথাস্থানে কোনো আয়োজক বা কমিটির কাউকে পাননি। মোল্লাপড়া ইউনিয়ন ছাড়া আর কোনো ইউনিয়নে মঙ্গলবার এই আয়োজন সম্পন্ন হতে পারেনি। বিভিন্ন ইউনিয়নে যাঁদের সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো, তাঁদের অনেকেই সুনামগঞ্জের খবরকে জানিয়েছেন, করণীয় বিষয়াদি সম্পর্কে তাঁদের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। জেলা ক্রিড়া কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্বে থাকা দুই উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় সমন্বয়ে ঘাটতি হয়েছে। এ কেমন কথা ? যেকোনো উদ্যোগ চলে নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করে। উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব অসুস্থ হলে ইউনিয়নের আয়োজন না হওয়ার কোনো কারণ নেই। পরিষ্কার যে, ইউনিয়ন পর্যায়ে যাঁদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো তাঁদের প্রয়োজনীয় গাইডলাইন ও নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এটি এই প্রতিযোগিতার মূল আয়োজকদের ব্যর্থতা।
আগামী ৫ নভেম্বর সারাদেশে একযোগে নতুনকুঁড়ি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগেই প্রতিযোগিতার সবধরনের প্রস্তুতি, খেলোয়াড় বাছাই ও দল গঠন শেষ করতে হবে। নতুবা উদ্বোধনের দিন লেজেগোবরে অবস্থা হওয়ার উপক্রম হবে। জেলা ক্রিড়া অফিসকে এখন খোলসের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে পূর্ণগতিতে কাজ শুরু করতে হবে। একটি সফল আয়োজনের জন্য মূল উদ্যোক্তাদের রাত—দিন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। কেবল নিয়ম রক্ষার জন্য আয়োজনে অংশগ্রহণের চিন্তা—ভাবনা থাকলে সেটি হবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিভা অন্বেষণের মূল চিন্তার বিরুদ্ধে। কে জানে সুনামগঞ্জের কোনো প্রত্যন্ত কোণে হয়তো লুকিয়ে আছে কোনো মেধাবী দৌঁড়বিদ, অ্যাথলেট, ফুটবলার কিংবা সাঁতাড়–। এইসব প্রতিভাকে বের করে আনতেই তো প্রধানমন্ত্রী এই বৃহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। মাঠ পর্যায়ে বিষয়টিকে যান্ত্রিকভাবে না দেখে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করার অনুরোধ আমাদের।
প্রতিযোগিতার আয়োজন ঘিরে এখন পর্যন্ত সমন্বয়হীনতার যে লক্ষণ ফুটে উঠেছে দ্রুত তা কাটিয়ে উঠে একটি সফল ও সর্বাঙ্গসুন্দর আয়োজনে এটিকে রূপান্তর করতে হবে। জেলায় এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রায় সাড়ে আঠারো হাজার শিশু ক্রিড়াবিদ নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্য থেকেই হয়তো ১০ জন জাতীয় পর্যায়ে এলাকা ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবেন। সুতরাং কঁুড়িকে অনাদরে অবহেলায় ঝরে পড়তে না দিয়ে তাঁদের ফুল হয়ে ফুটতে সহযোগিতা করাই হোক আয়োজকদের একমাত্র মূলমন্ত্র।
সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন