ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের আহ্বান

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫২

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, সড়ক দুর্ঘটনার কারণ, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’এর বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহসভাপতি মো. ওবায়দুল হক মিলন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো কী বলে মনে করেন?
ওবায়দুল হক মিলন: সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বেপরোয়া গতি, অবৈধ ওভারটেকিং এবং সড়কে মিশ্র যানবাহনের চলাচল অন্যতম কারণ। সিলেট—সুনামগঞ্জ সড়কে বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। সড়ক প্রশস্ত করা হলেও বাজার এলাকায় যাত্রী ওঠানামার স্থান ও যানবাহনের স্ট্যান্ড দখল হয়ে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট—সুনামগঞ্জ সড়কে দুর্ঘটনায় ৬২ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৬৫ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক ও ট্রাফিক আইন অমান্য রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে?
ওবায়দুল হক মিলন: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে মামলা দেওয়া হলেও পরে কিছু যানবাহন ও চালক আবার সড়কে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: বিআরটিএর লাইসেন্স প্রদান ও যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কী করা প্রয়োজন?
ওবায়দুল হক মিলন: ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আরও আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত করা দরকার। ডিজিটাল পদ্ধতিতে চালকদের দক্ষতা যাচাই, লাইসেন্স প্রদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং লাইসেন্স পাওয়ার পর চালকদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কোনো চালক অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং যানবাহনের ফিটনেস নিয়মিত যাচাই করাও জরুরি।

 

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশ, বিআরটিএ ও প্রশাসনের ভূমিকা কতটা সন্তোষজনক?
ওবায়দুল হক মিলন: সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করলেও সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে বসে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। কোথায় কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে এবং কী উদ্যোগ নিলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব, তা নির্ধারণ করে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জের দুর্ঘটনাপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে কী উদ্যোগ নেওয়া উচিত?
ওবায়দুল হক মিলন: দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, বাজার ও সড়কের বেহাল অংশ চিহ্নিত করা জরুরি। কোথায় বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে, তা বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে হবে। স্পিড ব্রেকারসহ অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি চালক, যাত্রী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও অনিয়ম প্রতিরোধে কী কী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে?

ওবায়দুল হক মিলন: নিরাপদ সড়ক চাই সুনামগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে পথচারী ও চালকদের সচেতন করা, লিফলেট বিতরণ, প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং ট্রাফিক সপ্তাহে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রশাসনের আইন প্রয়োগমূলক অভিযানেও সহযোগিতা করা হয়। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা ও সড়কের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আপনার সুনির্দিষ্ট দাবি কী?
ওবায়দুল হক মিলন: জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগের প্রতি আমাদের আহ্বান সড়ক নিরাপত্তায় কার্যকর ও যুগোপযোগী উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো ধরনের প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ যথাযথভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সহায়তার সুযোগ থাকলে তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে তাঁদের কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার