প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:২০
দুর্বিন শাহের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
মরমি গীতিকবি ও বাউল সাধক ‘জ্ঞানের সাগর’ দুর্বিন শাহের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকাল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্বিন শাহের গান ও দর্শন শুধু সুনামগঞ্জের সম্পদ নয়, এটি বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন, সাধনা ও সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরতে গবেষণা ও চর্চা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন লোকসংগীতশিল্পী ও গবেষক সুভাষ উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পল্লব ভট্টাচার্য অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক সন্তোষ কুমার চন্দ্র, সোহেল রানা, রূপশ্রী রায়, সুমা সাহা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব চৈতালী পুরকায়স্থ ও বিধান চন্দ্র বণিক।
প্রধান আলোচক সুভাষ উদ্দিন বলেন, দুর্বিন শাহের মতো কবি ও সাধকের আবির্ভাব যুগে যুগে হয় না। রাধারমণ, হাসন রাজা, দুর্বিন শাহ ও সৈয়দ শাহনূরের মতো গুণী কবি—সাধকদের জন্ম হয়েছে সুনামগঞ্জের মাটিতে। তাঁদের সৃষ্টি ও অবদান দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।
(1).jpg)
দুর্বিন শাহের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও মাজারের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাঁর মাজার আগের তুলনায় অনেক বেশি যত্নে সংরক্ষিত ও সুন্দর হয়েছে। পৌরসভার উদ্যোগে সমাধিস্থল সংস্কার এবং সড়ক নির্মাণের ফলে দর্শনার্থী ও পর্যটকদের সেখানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে মাজারের উন্নয়নের পাশাপাশি তাঁর জীবন, সাধনা, গান ও দর্শন নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দুর্বিন শাহের সৃষ্টির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাঁর গানে মরমিবাদ, আধ্যাত্মিকতা, মানবপ্রেম ও ¯্রষ্টার অনুসন্ধান গভীরভাবে ফুটে উঠেছে।
নিজের গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুভাষ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের লোককবি, বাউল ও সাধকদের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। দুর্বিন শাহের জীবন ও সাধনা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ গবেষণার কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে এবং প্রবীণ মানুষের কাছ থেকে অনেক অজানা তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সেসব তথ্য লিপিবদ্ধও করছেন। তবে এ ধারার গবেষণা ও চর্চায় নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ কম থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
(1).jpg)
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। জেলার কবি, বাউল ও সাধকদের জীবন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। তাঁদের জন্মস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো ঘুরে দেখানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে দুর্বিন শাহের গান পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীবৃন্দ, ধ্রুবতারা শিল্পী গোষ্ঠী, মনোরঞ্জন সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, গানের পাঠশালা, লোকদল শিল্পীগোষ্ঠী ও লোকজ সংগীত বিদ্যালয়, জেলা ভাই ভাই শিল্পী গোষ্ঠী সমাজকল্যাণ সমিতি এবং বাউল সমিতির শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতা করেন সোহেল রানা, সন্তোষ কুমার চন্দ, অমিত বর্মন, জায়েদ মাহমুদ ও জাকির হোসেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন