প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৪
তাহিরপুরে থানা থেকে স্বামীকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির স্ত্রীর কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম জামাল মিয়া। তিনি উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং রজনী লাইন গ্রামের রেনু মিয়ার ছেলে। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী মো. আছাহাব মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বড়ছড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর বড়ছড়া গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিয়ে আছাহাব মিয়াকে চার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাহিরপুর থানার অধীন টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আরেফিনের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেন। কারাভোগ শেষে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর কাছে তিনি জানতে পারেন, তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে ইউপি সদস্য জামাল মিয়া ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, স্ত্রীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত চাইলে ইউপি সদস্য জামাল মিয়া নানা টালবাহানা শুরু করেন। এমনকি উল্টো আরও টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে আবারও পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী আছাহাব মিয়া বলেন, গ্রামের একটি চক্র তাকে চার পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়েছে। পুলিশ তার ঘর তল্লাশি করেও কিছু পায় নি। এরপরও তাকে এবং আরও একজনকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও এক পুরিয়া গাঁজাসহ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সবকিছু শুনে এসিল্যান্ড তাকে ১০০ টাকা জরিমানা ও তিন দিনের কারাদণ্ড দেন। অপর ব্যক্তিকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি গরিব ও প্রতিবন্ধী মানুষ। বারবার টাকা ফেরত চাইছি, না হয় থানার কাকে টাকা দিয়েছেন, তা জানাতে বলছি। কিন্তু তিনি থানায় যাবেন বলে সময়ক্ষেপণ করছেন। এখন উল্টো আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য জামাল মিয়া বলেন, এ সময়ে তার আপন ভাই আমার সঙ্গে ছিল। যেখানে যা দেওয়ার প্রয়োজন, সেখানে সে দিয়েছে। ইউপি সদস্য হিসেবে আমি তাকে শুধু সহযোগিতা করেছি। আমি তার স্ত্রীর কাছ থেকে কোনো টাকা—পয়সা নেইনি।
টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আরেফিন বলেন, আমি ছুটিতে ঢাকায় আছি। এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এমন ঘটনার বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে বিষয়টি খোঁজখবর নেব। ঘটনা সত্য হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপা মনি দেবী বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন