প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৮
জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বড়ডহর উন্মুক্ত জলমহালটি লুটপাটের আশঙ্কায় রয়েছে। এ বিষয়ে নিরাপত্তা ও প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বড়ডহর পোনা মজুদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দিরাজ বিশ্বাস। গত মঙ্গলবার গন্ধর্বপুর গ্রামের আছাব মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান ও স্বজনশ্রী গ্রামের দবির মিয়ার ছেলের শাহিনুর রহমানকে অভিযুক্ত করে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দিরাজ বিশ্বাস ২০২২ সাল থেকে সুফলভোগী প্রকৃত মৎস্যজীবীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে বড়ডহর উন্মুক্ত জলমহালটিতে পোনা মাছ মজুদ, রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া প্রতি বছর নিয়মিতভাবে জলমহালের সরকারি খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীরা জানান, জলমহালটিতে পোনা মাছ অবমুক্ত করে এবং চারপাশে কাটা বাঁশ দিয়ে ঘেরাও করতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এই জলমহালটি লুটপাট হলে দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবারগুলোর জীবন—জীবিকা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। গত ২২ অক্টোবর বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী চান মিয়ার কাছে জানানো হলে তিনি সমাধানের চেষ্টা করেন এবং ব্যর্থ হন। উল্টো অভিযুক্তরা হাজী চান মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় অপপ্রচার চালিয়ে তাকে হয়রানির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবর অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান ও শাহিনুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি জলমহালটিতে এসে অবৈধভাবে মাছ লুটপাটের চেষ্টা চালান। এ সময় গ্রামের কাচা মিয়াসহ স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে মৎস্যজীবীরা তাদের এই কর্মকাণ্ডে বাধা দেন। জলমহালটি লুট হলে দুই লাখ টাকার বিনিয়োগ ও সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন তারা। বড়ডহর উন্মুক্ত জলমহালের মাছ ও বিনিয়োগকৃত সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দিরাজ বিশ্বাস।
অভিযুক্ত শাহিনুর রহমান জানান, দিরাজ বিশ্বাস অবৈধভাবে বড়ডহর জলমহালটি ফিশিং করে আসছেন। আমি তাতে বাধা দিয়েছি। তাদের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ইউএনও অফিসে বসে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলা হলেও তারা তাতে রাজি হননি। অপর অভিযুক্ত মুজিবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পেয়েছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের মাধ্যমে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন