প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৩
তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, নতুন খেলোয়াড় তৈরি এবং শিশু—কিশোরদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’—এ সুনামগঞ্জ জেলায় ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। জেলার ১২টি উপজেলা ও পৌরসভা মিলিয়ে বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে মোট ১৮ হাজার ৪৫০ জন প্রতিযোগী নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩৫২ জন কিশোর এবং ৬ হাজার ৯৮ জন কিশোরী।
জেলা ক্রীড়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট নিবন্ধিত প্রতিযোগীর প্রায় ৬৭ শতাংশ কিশোর এবং ৩৩ শতাংশ কিশোরী। কিশোরীদের তুলনায় কিশোরদের নিবন্ধন প্রায় দ্বিগুণ হলেও বিভিন্ন ইভেন্টে মেয়েদের অংশগ্রহণ কর্মসূচিতে তাদের আগ্রহের ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে।
ইভেন্টভিত্তিক নিবন্ধনে সবচেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া গেছে ফুটবলে। এ খেলায় নিবন্ধন করেছে ১১ হাজার ৩৮ জন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৮২৬ জন কিশোর এবং ২ হাজার ২১২ জন কিশোরী। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অ্যাথলেটিক্স। এ ইভেন্টে নিবন্ধন করেছে ৪ হাজার ৮৯২ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৭৮ জন কিশোর এবং ২ হাজার ৫১৪ জন কিশোরী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অ্যাথলেটিক্সে কিশোরীদের সংখ্যা কিশোরদের চেয়ে ১৩৬ জন বেশি। এছাড়াও ক্রিকেটে ৩ হাজার ২১ জন, কাবাডিতে ২ হাজার ৭৮৯ জন, ব্যাডমিন্টনে ২ হাজার ৭৫৭ জন, সাঁতারে ৩ হাজার ৭১৬ জন, দাবায় ১ হাজার ১০৩ জন, মার্শাল আর্টে ৯০ জন, ভলিবলে ৫৫৯ জন এবং টেবিল টেনিসে ২৫১ জন নিবন্ধন করেছে।
উপজেলা ও পৌরসভাভিত্তিক নিবন্ধনে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা। এখানে নিবন্ধন করেছে ২ হাজার ৪৪৪ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৫২ জন কিশোর এবং ৯৯২ জন কিশোরী। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ছাতক উপজেলা। সেখানে নিবন্ধন করেছে ২ হাজার ২৭৯ জন। এর মধ্যে কিশোর ১ হাজার ৭১৮ জন এবং কিশোরী ৫৬১ জন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দিরাই উপজেলা। সেখানে মোট নিবন্ধন ১ হাজার ৯৭৫ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৮৫ জন কিশোর এবং ৫৯০ জন কিশোরী। এছাড়াও শান্তিগঞ্জে ১ হাজার ৭৭৩ জন, দোয়ারাবাজারে ১ হাজার ৪৮০ জন, ধর্মপাশায় ১ হাজার ৪৪২ জন, জগন্নাথপুরে ১ হাজার ৪১১ জন, তাহিরপুরে ১ হাজার ৩৬১ জন, সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ১ হাজার ৯৮ জন, জামালগঞ্জে ৯৪৫ জন, বিশ্বম্ভরপুরে ৮৭৯ জন, শাল্লায় ৭৩৯ জন এবং মধ্যনগরে ৬২৪ জন নিবন্ধন করেছে।
নিবন্ধনের লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অধিকাংশ উপজেলায় কিশোরদের সংখ্যা বেশি হলেও কয়েকটি ইভেন্টে কিশোরীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে অ্যাথলেটিক্সে কিশোরীদের সংখ্যা কিশোরদের ছাড়িয়ে গেছে। সুনামগঞ্জ সদর, ধর্মপাশা, জগন্নাথপুর, শাল্লা ও তাহিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মেয়েদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। সুনামগঞ্জ সদরে অ্যাথলেটিক্সে ৪৪৮ জন কিশোরী এবং ৩৮৮ জন কিশোর নিবন্ধন করেছে। ধর্মপাশায় এই সংখ্যা যথাক্রমে ৩৩৮ ও ১৯৭। জগন্নাথপুরে ২১০ জন কিশোরী এবং ১৬৮ জন কিশোর নিবন্ধিত হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সুযোগ ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্র তৈরি হলে কিশোরীরাও ক্রীড়াঙ্গনে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখাচ্ছে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে বিপুলসংখ্যক প্রতিযোগীর নিবন্ধন সুনামগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিক তুলে ধরেছে বলে মনে করেন সুনামগঞ্জ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের সদস্য সচিব, ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক ক্রিকেটার জি. এম তাশহিজ। তিনি বলেন, বিশেষ করে ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, ক্রিকেট, সাঁতার ও কাবাডিতে বিপুলসংখ্যক প্রতিযোগীর নিবন্ধন তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। তবে শুধু নিবন্ধনই যথেষ্ট নয়, প্রকৃত ক্রীড়া প্রতিভা বের করে আনতে পরবর্তী ধাপে সুষ্ঠু বাছাই, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষ প্রশিক্ষক, প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম এবং প্রতিযোগিতার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও হাওরাঞ্চলের প্রতিভাবান শিশু—কিশোরদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা গেলে জেলা পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় উঠে আসার সম্ভাবনা আরও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, এখন এই বিপুলসংখ্যক আগ্রহী প্রতিযোগীর মধ্য থেকে যোগ্য প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের যথাযথ পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া ও ভবিষ্যতের দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। এসময় তিনি আরও বলেন, বিগত নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় ফুটবলে সিলেট বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন দলের চারজন খেলোয়াড় ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা দলের। এমনকি ওই প্রতিযোগিতায় গোলদাতাও ছিলেন সুনামগঞ্জের খেলোয়াড়।
জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত থাকবেন। একইভাবে জেলার প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনও নিজ নিজ সম্মেলন কক্ষ বা উপযুক্ত স্থান থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেবে।
তিনি আরও বলেন, উদ্বোধনের পর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে নিজ নিজ সুবিধা অনুযায়ী আন্তঃইউনিয়ন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হবে। উপজেলা পর্ব শেষে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী জেলা পর্যায়ের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্যায়ে শহরের স্থানীয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে জেলা পর্যায়ের মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
সোহাগ মিয়া আরও বলেন, সুনামগঞ্জ জেলায় মোট ইউনিয়ন রয়েছে ৮৮টি এবং পৌরসভা রয়েছে চারটি। জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা পরিচালনার সুবিধার্থে ১২টি উপজেলা এবং সুনামগঞ্জ সদর পৌরসভাকে পৃথক দল হিসেবে বিবেচনা করে মোট ১৩টি দল গঠন করা হবে।
দেশের অন্যান্য এলাকার মতো সুনামগঞ্জের সব ইউনিয়নে সমানভাবে সব ইভেন্টের দল গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও কাবাডিতে অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হলেও বালিকা ক্যাটাগরি, ভলিবল, টেবিল টেনিস এবং মার্শাল আর্টে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। অঞ্চলভেদে সুনামগঞ্জ সদর ও জগন্নাথপুর উপজেলায় ভালো অংশগ্রহণ থাকলেও শাল্লা ও মধ্যনগর উপজেলায় অংশগ্রহণ কম।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন