প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে দেশব্যাপী শিশু—কিশোরদের ক্রীড়ামুখী করে গড়ে তোলা এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় খুলনা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি দেশের ৬৪টি জেলায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৃথকভাবে প্রজেক্টরের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্প্রচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুনজিত কুমার চন্দ, সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দীন মুর্শেদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শিশু—কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প—সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।
শিশু—কিশোরদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের উপর গুরুত্ব আরোপ করে তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়ালেখা করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি প্রত্যেক শিশুকে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারণ, শুধু শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে হবে।
তিনি বলেন, তোমরা পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট কিংবা আইনজীবী হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, তারা সব ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে পারে। দেশের অন্যান্য শিশু—কিশোরদেরও একইভাবে নিজেদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে।
এবারের প্রতিযোগিতায় আগের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ক্ষুদে খেলোয়াড়রা। অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ থেকে ১৪ বছর। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই ও তাদের বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রম্নতি অনুযায়ী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ক্রীড়া পরিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন