প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৮
দ্রুত কাজ শেষ চান এলাকাবাসী
জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের নলজুর নদীর ওপর ডাক বাংলো সেতুর নির্মাণ কাজ ৭ মাস বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম দিকে নদীতে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি আসায় জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিন পূর্বে পুনরায় কাজ শুরু হয়। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে বর্ষা মৌসুমের আগেই সেতুর কাজ সমাপ্ত চান উপজেলাবাসী।
গত বুধবার দুপুরে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা সদরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নলজুর নদীর ওপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ডাকবাংলো সেতুরটি পশ্চিম অংশের পাইলিংয়ের কাজ করছেন শ্রমিকরা। তবে মূল পাইলিং এখনও শুরু হয়নি। পাইলিংয়ের মেশিন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসময় কয়েকজন শ্রমিক জানালেন, আগামী দুই—তিনদিনের মধ্যে সেতুর পাইলিং কাজ শুরু হবে। বর্তমানে আমরা পাইলিংয়ের জন্য মেশিন প্রস্তুত করছি।
কাজের দেখভাল করছিলেন সাইট ইঞ্জিনিয়ার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ—সহকারী প্রকৌশলী সাদিকুর রহমান সাদিক। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ২০২৩—২৪ সালের অর্থ বছরের ফ্লাড—২০২২ এর আওতায় সেতুটির ট্রেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে এ বছরের ফ্রেরুয়ারি মাসে পুরাতন সেতু ভেঙে নতুন সেতুর কাজ শুরু হয়। এপ্রিলে অতিবৃষ্টি ও ঢলের পানি নদীতে চলে আসায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৬ মাস পর আবার অক্টোরের ১৫ তারিখ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে পাইলিং কাজ চলছে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চে সেতুর কাজ সমাপ্ত করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা অরূপ সরকার বলেন, সেতুটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেতুর কাজ শেষ হলে শহরের যানজট কমে আসার পাশপাশি যাতায়াতে দুর্ভোগ লাঘব হবে। বর্ষা মৌসুমের আগেই সেতুর কাজ দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি। নদীতে পানি চলে এলে কাজের বিঘ্নিত ঘটে। এতে দুর্ভোগ আর বাড়বে বলে তিনি জানান।
সেতুর পাশের তাসলিম চুলা ঘরের স্বত্ত্বাধিকারী সুহেল আহমদ বলেন, সেতুটি ভেঙে নতুন সেতুর কাজ শুরু হওয়ায় চলাচলে জনভোগান্তি সৃষ্টি হলেও সেতুর কাজ সমাপ্তি হলে পুরো উপজেলাবাসী উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, নদীর দুইপারে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় প্রতিনিয়ত সেতুর দুইপারের বাসিন্দা ছাড়াও সদরে আসা শত শত লোকজনকে যাতায়াত করেত হয়। আমাদের দাবি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন সেতুর সঠিক নিয়মে কাজ শেষ করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে নলজুর নদীর ওপর ১৯৮৬ সালে খাদ্য গুদামের সামনে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে নলজুর সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। তৎকালীন সময়ে সেতুর স্থান নির্ধারণ নিয়ে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা হারুনুর রশীদ হিরন মিয়া ও জাতীয় পার্টি নেতা আছাব আলীর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। জগন্নাথপুর, ইকড়ছই, ছিলিমপুর, বলবল, ভবানীপুর, যাত্রাপাশা ও শেরপুর গ্রামবাসী নলজুর নদীর ডাকবাংলো এলাকায় সেতু নির্মাণের দাবি জানান। কিন্তু হবিবপুর গ্রামের লোকজন গুদামের সামনে বাস্তবায়ন করতে চান। জাতীয় পার্টি সরকারের শাসনামলে প্রভাব খাটিয়ে আছাব আলী সেতুটি গুদামের সামনে বাস্তবায়ন করেন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নদীর পূর্বপাড়ের জগন্নাথপুর ও পশ্চিমপাড়ের ইকড়ছইসহ পশ্চিম এলাকার মানুষ ও জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করে ডাক বাংলা এলাকায় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। তৎসময় জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতি রবি ও বুধবার দুই টাকা করে চাঁদা তুলে ফান্ড সংগ্রহ করেন। চাঁদা সংগ্রহের টাকায় সেতুর নীচের সব পিলারের কাজ শেষ হলেও ১৯৯৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের নির্দেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে সেতুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হয়।
২০২১ সালে নলজুর নদী খননকালে সেতুর পিলারের কাছ থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি উত্তোলন করায় ডাকবাংলো সেতুর দুটো অংশ দেবে যায়। এক বছর সেতু দিয়ে সবধরনের চলাচল বন্ধ থাকার পর স্টিলের পাটাতন বসিয়ে সেতুটি জোড়াতালি দিয়ে চালু করা হয়। সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠায় নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গত বছরের জুন মাসে মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ডাকবাংলো সেতুর কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ডাক বাংলোর সেতুটি ভেঙে দিয়ে আধুনিকায়ন সেতুর কাজ শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে। এপ্রিলের দিকে নদীতে পানি চলে আসায় সামায়িকভাবে কাজ বন্ধ করা হয়। এখন নদীর পানি কমে যাওয়ায় কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, নাগরিক ভোগান্তি কমাতে আমরা সেতুর পাশেই বাঁশের সাঁকো স্থাপন করেছি। এছাড়াও শহরের প্রধান আর্চ সেতু দিয়ে সবধরণের যানবাহন চলাচল করছে। সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমে যাবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন