প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:৫০
তাহিরপুরে বোরো ধানের চারা রোপণের পুরো মৌসুমেও প্রণোদনার বীজ না পাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাওরপাড়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর হাওরের পানি আগাম নেমে যাওয়ায় বীজ বপনের উপযুক্ত সময় চলছে। এ অবস্থায় প্রান্তিক কৃষকরা বুক ভরা আশা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন, কবে নাগাদ সরকারের দেওয়া প্রণোদনার বীজ ও সার পাবেন।
গত কয়েক বছর ধরে প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তার লক্ষ্যে সরকার উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে এই বীজ ও সার বিতরণ করে আসছে। তবে বিগত বছরগুলোতে যে সময়ে কৃষকরা বীজ ও সার পেয়েছেন, তা তাদের কোনো কাজে আসেনি। কারণ হাওরে যখন পানি কমে যায়, ঠিক তখনই জমিতে বীজ বপন করতে হয়।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, বিগত বছরগুলোতে প্রান্তিক কৃষকরা বিনামূল্যে বীজ পেলেও তা কোনো উপকারে আসেনি। কারণ যে সময়ে তারা বীজ পেয়েছেন, ততদিনে হাওরে বীজ বপনের সময় শেষ হয়ে গেছে।
(1).jpg)
শনির হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক আলমগীর খোকন বলেন, এ বছর হাওরপাড়ের কৃষকরা বোরো ফসল নিয়ে চিন্তিত। একদিকে হাওরের পানি আগাম কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে প্রান্তিক চাষিরা প্রণোদনার কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না। অপরদিকে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের প্রি—ওয়ার্ক জরিপের কাজ অক্টোবর মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। অথচ বিগত বছরগুলোতে সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখ থেকেই হাওরে হাওরে প্রি—ওয়ার্ক জরিপের কাজ শুরু হতো।
শনির হাওরপাড়ের প্রান্তিক কৃষক লগুছ মিয়া বলেন, তিনি প্রতি বছর ৭ কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমি চাষাবাদ করেন। প্রতি বছরই তিনি প্রণোদনার বীজ ধান পেয়ে জমি চাষাবাদ করেন। এ বছর প্রণোদনার বীজ ধান ও সার না পেয়ে বাজার থেকে বীজ ধান কিনে জমিতে বুনন করেছেন।
মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি বড়দল গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ বছর হাওরের পানি দ্রুত কমে যাচ্ছে। যে কারণে বীজ বপনের কাজ বিগত বছরের তুলনায় ১৫ দিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে। আগামী দুই—তিন দিনের মধ্যেই বীজ ধান বপনের কাজে শেষ হয়ে যাবে। এ বছর প্রান্তিক চাষিরা প্রণোদনার কোন বীজ ধান পায়নি। বিগত বছরগুলোতে প্রণোদনার বীজ ধান পেয়ে কৃষকদের কোন কাজে আসেনি। এবার পেলেও কোন কাজে আসবে না।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, এ বছর হাওরের পানি আগাম কমে গেছে। যে কারণে কৃষকরা কার্তিক মাসের প্রথম সপ্তাহেই বাজার থেকে বীজ ধান কিনে বপন শুরু করেছেন। প্রণোদনার বীজ ধান প্রান্তিক কৃষকদের দ্রুত দেয়ার জন্য তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এ বছর কৃষকদের প্রণোদনার বীজ দেওয়ার চিঠি এখনো আসেনি। মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী জানান, তিনি তাহিরপুরে নতুন যোগদান করেছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নিয়ে প্রণোদনার বীজের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন