প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৯
রোগী দেখেছেন তিন সহকারী
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে বৃহস্পতিবার বহিঃবিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন তিন সহকারী। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালের পুরুষ বহির্বিভাগে কোনো চিকিৎসককে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। ওই কক্ষে তিনজন সহকারীকে রোগীদের দেখতে দেখা গেছে। তবে তারা কেউই চিকিৎসক নন। অন্যদিকে, রোগীদের দেওয়া চিকিৎসাপত্রে কোনো চিকিৎসকের নাম পরিচয় উল্লেখ নেই। তবে ওই সহকারীদের দেওয়া ওষুধের স্লিপে হাসপাতালের ডিসপেনসারি থেকে ওষুধ সংগ্রহের জন্য মেডিকেল অফিসার ডা. অমিত সিনহার নাম ও সিল দেখা গেছে।
এছাড়াও রোগীদের সাত দিনের অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সের পরিবর্তে মাত্র তিন দিনের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ের আগে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রোগী ও স্বজনদের অনেকে বিরূপ সমালোচনা করেছেন। হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেছেন, বিষয়ঢি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।
বৃহস্পতিবার হাসপাতালের পুরুষ বহির্বিভাগে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চিকিৎসকের নির্ধারিত কক্ষে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত নেই। সেখানে তিনজন সহকারীকে রোগীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা শুনে রোগী দেখার কাজ করতে দেখা যায়। তবে তাঁদের কেউই চিকিৎসক নন। রোগীদের দেওয়া চিকিৎসাপত্রেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসকের নাম বা পরিচয় উল্লেখ নেই। ফলে কোন চিকিৎসকের অধীনে তাঁরা চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন না রোগীরা। তবে ওই সহকারীদের দেওয়া ওষুধের স্লিপে হাসপাতালের ডিসপেনসারি থেকে ওষুধ সংগ্রহের জন্য মেডিকেল অফিসার ডা. অমিত সিনহার নাম ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে, অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহের ক্ষেত্রেও অসংগতি দেখা গেছে। সাত দিনের অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সের বিপরীতে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র তিন দিনের ওষুধ। বাকি ওষুধ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হবে, নাকি রোগীদের বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয় নি। এতে রোগীদের নির্ধারিত অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স অসম্পূর্ণ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকের পূর্ণ কোর্স সম্পন্ন না হলে চিকিৎসার কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়মিত ও অসম্পূর্ণ ব্যবহারে জীবাণু ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
শহরতলীর হাসননগরের বাসিন্দা আব্দুর রুফ বলেন, শরীরে চুলকানির সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। চিকিৎসকের কক্ষে তিনজন অল্পবয়সী মেয়েকে বসে থাকতে দেখি। তাঁদের মধ্যে একজন আমার সমস্যার কথা শুনে ওষুধ লিখে দেন। পরে হাসপাতালের ডিসপেনসারি থেকে ওষুধ সংগ্রহের জন্য আরেকটি স্লিপ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি, মাত্র তিন দিনের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বাকি চার দিনের ওষুধ কোথা থেকে সংগ্রহ করব, কিংবা বাইরে থেকে কিনতে হবে কি না, সে বিষয়ে কেউ কিছু জানাননি।
আব্দুর রুফের চিকিৎসাপত্রে দেখা যায়, অন্যান্য ওষুধের পাশাপাশি তাঁকে ফ্লুক্লক্স ৫০০ নামের একটি অ্যান্টিবায়োটিক সাত দিন সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতালের ডিসপেনসারি থেকে ওষুধ সংগ্রহের স্লিপে ওই অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্র তিন দিনের ওষুধ উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সাত দিনের কোর্সের বাকি চার দিনের ওষুধ কীভাবে সংগ্রহ করবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঈনপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিন বলেন, সকালে ২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে হাসপাতালে এসেছি। অথচ আমাকে মাত্র তিন দিনের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বাকি ওষুধ কোথা থেকে সংগ্রহ করব, তা নিয়েও কিছু জানানো হয়নি।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, পুরুষ বহিঃর্বিভাগে দুজন চিকিৎসক দায়িত্বে রয়েছেন। সকালে কেন সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসময় চিকিৎসাপত্রে কোন অবহেলা থাকলে, সেটিও দেখা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন