প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৬
‘শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে পালিয়েছিলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাও একইভাবে পালিয়েছেন। ওরা পালানোর বংশধর। তাঁর বাবা পালিয়েছিলেন, তাঁর ছেলে পালিয়েছে, তিনিও পালিয়েছেন। তাঁরা আর বাংলাদেশে আসবেন না।’ এমন মন্তব্য করেছেন সুনামগঞ্জ—৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর এম আহমদ।
শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত র্যালি ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কয়ছর এম আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সংকটময় সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁদের উত্তরসূরি তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার জন্য তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি—জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় দেশের গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হলে বেগম খালেদা জিয়া তা পুনরুদ্ধারে আপসহীন আন্দোলন করেছেন। একইভাবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন—সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাঁর সরকারের পতন হয়েছে।
(1).jpg)
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য কয়ছর আহমদ বলেন, ওই নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপি ও তারেক রহমানের প্রতি ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তারেক রহমান দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার সকালে শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ—সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন। পরে কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হোসেন বখত চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ—৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, সদস্য নাদীর আহমদ, অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, আ.ত.ম. মিসবাহ, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, রেজাউল হক, আকবর আলী, কাজী নাসিম উদ্দিন লালা, নজরুল ইসলাম ও মোনাজ্জিও হোসেন।
এছাড়াও বক্তব্য দেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ লিলু, প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল্লাহ হাসান জুনেদ, প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মুর্শেদ আলম, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ কয়েছ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনাজ্জির হোসেন, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভায় অন্য বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বর শুধু অতীত স্মরণের দিন নয়— এটি গণতন্ত্র, অধিকার ও জাতীয় ঐক্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন। তাঁরা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কেউ কেউ বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। এ ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন