শাল্লার নিজগাঁওয়ে শান্তি স্থাপন করুন

প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৫

শাল্লা উপজেলার নিজগাঁও গ্রামে একটি খুনের পর তিন দিন ধরে লুটপাট ও ঘর—বাড়িতে আক্রমণের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। এটি আইন—শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঘাটতিকে প্রকট করে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর নিজগাঁওয়ে একখণ্ড পতিত জমি দখল করাকে কেন্দ্র করে গ্রামের রূপ মিয়া ও আজব আলী পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে রূপ মিয়ার চাচাতো ভাই আব্দুল মান্নান মিয়া গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই খুনের পর আজব আলী পক্ষের অনেকেই গা ঢাকা দেন। এই সুযোগে রাতে গ্রামের অন্তত ৩৫টি বাড়িতে তিন দিন ধরে ভাঙচুর ও লুটপাট সংঘটিত হতে থাকে। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন গ্রামে থাকা নারী, বৃদ্ধ, শিশু ও অন্যরা। এই সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেমন যথেষ্ট  উদ্যোগ নেই বলেই প্রতীয়মান হয়। কিছু পতিত জমি দখল করার ঘটনাটি খুনোখুনির পর্যায়ে চলে যাওয়া এখন আমাদের গ্রামীণ জীবনের সাধারণ বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের সহিংসতা এখন গা সওয়া বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ একটি রাষ্ট্রের আইন—শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন করুণ অবস্থায় থাকতে পারে না। সমাজে অপরাধ হবে, নানা ধরনের অপতৎপরতা চলবে; এগুলো শূন্যে নামিয়ে আনা কখনও সম্ভব নয়। তবে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অন্যান্য দেশে যেমন আইন—শৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক ভূমিকা দেখা যায় আমাদের দেশে তেমন ভূমিকা কখনও দেখা যায় না। এই দেশে সহিংসতা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশিত হলেও তা থামানোর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। না আছে সামাজিক উদ্যোগ, না আছে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ। সকলেই যেন ঘটনা ঘটতে দিতে চান। ঘটনা ঘটার পর কিছু তৎপরতা দৃশ্যমান হয়, তবে এর পরিণতি কখনও চোখে পড়ে না। এই যে আব্দুল মান্নান মিয়া নিহত হলেন, শেষ পর্যন্ত কি তাঁর খুনীর উপযুক্ত বিচার হবে ? যিনি মারা গেলেন তার পক্ষের লোকজনের মামলা—মোকদ্দমার জটিল ও দীর্ঘসূত্রিতায় ভরা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিচারের শেষ স্তর পর্যন্ত পৌঁছানো যাবে ? প্রায় ক্ষেত্রেই এ—সব ঘটনার চূড়ান্ত বিচার শেষ হয় না। এ কারণেই শক্তিশালী পক্ষসমূহ যেকোনো অপরাধ সংঘটনে বিন্দুমাত্র দ্বিধান্বিত থাকে না। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে যদি অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসৃত হতো এবং অপরাধীর  সাজা নিশ্চিতের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে অপরাধের মাত্রা যে বহুলাংশে কমে আসতো তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

 


নিজগাঁওয়ে একটি খুনের পরই স্থানীয় আইন—শৃঙ্খলা বাহিনীর চিন্তা করা উচিৎ ছিলো, এই খুনকে কেন্দ্র করে পরে আরও অনেক ঘটনা ঘটতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা ছিলো। আব্দুল মান্নানকে কে হত্যা করেছে তা অজানা নয়। প্রকাশ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এখানে স্বাক্ষী সাবুদেরও কোনো অভাব নেই। পুলিশ কি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করে নির্মম মৃত্যুর শিকার পরিবার পরিজনকে আশ^স্ত করতে পেরেছে ? শাল্লা থানার ওসি সুনামগঞ্জের খবরকে বলেছেন, খুনের খবর পাওয়ার পর গ্রামে পুলিশ পৌঁছার আগেই কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। সংবাদ তথ্য অনুসারে হত্যাকাণ্ডের পর তিন দিন ধরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তাহলে কি হত্যাকাণ্ডের অন্তত তিনদিন পর পুলিশ গ্রামে গিয়েছে ? একটি হত্যাকাণ্ড ঘটার অব্যবহিত পরেই তো পুলিশের সেখানে পৌঁছে গিয়ে পরবর্তী পরিস্থিতি যাতে আর অবনতি না হয় তা নিশ্চিত করার কথা। শাল্লা থানা পুলিশ যে সেই ধরনের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি তা বেশ বুঝা যায়। 

 


কোনো অপরাধের পাল্টা অপরাধ করাও আইনের দৃষ্টিতে শান্তিযোগ্য। একটি মৃত্যু মানুষকে বিক্ষুব্ধ করবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এর জেরে প্রতিপক্ষের বাড়ি—ঘরে হামলা, মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া এবং ভাঙচুর কখনও সঠিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে না। অপরাধ বিচারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের আইন—শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানসমূহের। যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন, হাজারটা বাড়ি ভাঙলেও তাঁকে ফিরিয়ে আনা যাবে না। বরং এইসব করে আরও বহু মানুষ আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী সাব্যস্ত হচ্ছেন। একটি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে পুরো গ্রামসুদ্ধ একটি দীর্ঘস্থায়ী অশান্তির যাত্রা শুরু হলো। এই অশান্তি যাতে আর এক চুল পরিমাণ না বাড়ে দায়িত্বশীলদের তা নিশ্চিত করা অবশ্যকর্তব্য। আ্টপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, নিজগাঁওয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, শাল্লা উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন ব্যক্তিবর্গসহ আইন—শৃঙ্খলা বাহিনীকে এখন ওই গ্রামের শান্তি পুনঃস্থাপন এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের আতঙ্ক দূর করতে হবে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে গ্রহণ করতে হবে আইনি ব্যবস্থা।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার