প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩১
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে জামালগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া—পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১২ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে থানার সামনের সড়কে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দলীয় বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত। শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দুই পক্ষ পৃথক মিছিল বের করে। মিছিল দুইটি থানার সামনের সড়কে মুখোমুখি হলে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া—পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান ও সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, জুলফিকার চৌধুরী রানা, মোহাম্মদ আলী, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুক মিয়া, ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল লেইছ, কৃষকদলের আহ্বায়ক মোবারক হোসেন, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন এবং কৃষকদলের সদস্যসচিব আসদা নূর সাদীসহ অন্য নেতাকর্মীরা।
অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালিক, আজিজুর রহমান, আজাদ হোসেন বাবলু, মাসুম মাহমুদ তালুকদার এবং সদস্য এমদাদুল হক আফিন্দী, অ্যাডভোকেট শাহীনূর রহমান শাহীন, ইকবাল হাসান, ফরিদ মিয়া তালুকদার, আলী আক্কাস মুরাদ, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুর রহমান হিরন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ওয়াহিদুর রহমানসহ অন্য নেতাকর্মীরা।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর কামলাবাজ গ্রামের জুবায়ের আহমদ (২৯), দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়া (৩০), লক্ষ্মীপুর গ্রামের কয়েল মিয়া (৩৮), উজান লালপুর গ্রামের শোয়াব আলী (৬১), ছেলাইয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৩০), সেলিমগঞ্জ গ্রামের সানোয়ার হোসেন (৪৫), গজারিয়া গ্রামের সাজেদা আক্তার (২৪), উত্তর কামলাবাজ গ্রামের ফারুক আহমদ (৩৫), দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রামের দ্বীন ইসলাম স্বপন (২৯), লক্ষ্মীপুর গ্রামের আশরাফ উদ্দিন (৪৯), সাচনাবাজার গ্রামের আব্দুল মোশাব্বির (৩০), লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. সামাউল (৪০), কামাল হোসেন (৭৫) ও ইনছানপুর গ্রামের মিজানুর রহমান (৪২)।
উভয় পক্ষই সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুম মাহমুদ তালুকদার বলেন, আমাদের মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল। মিছিলে চারজন যুগ্ম আহ্বায়কসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ছিলেন। প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের মিছিলের পথরোধ করে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমাদের তিন—চারজন আহত হয়েছেন।
অপরপক্ষের উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জুলফিকার চৌধুরী বলেন, আমরা মিছিল শেষে উপজেলা পার্কে সমাবেশ করছিলাম। এ সময় অন্যপক্ষের লোকজন সেখানে গিয়ে মিছিল ও স্লোগান দিতে শুরু করে। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফয়জুর রহমান জানান, শনিবার দুপুরে বিএনপির ১২ জন নেতাকর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইটপাটকেলের আঘাত রয়েছে।
জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষ পৃথক মিছিল বের করে। মিছিল দুইটি থানার সামনের সড়কে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ কাছাকাছি থাকায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া সংসদ সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে তাহিরপুর থেকে কয়েকজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন