প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৪
৪ বছর পর জমির দখল বুঝে পেলেন দুই ভাই
তাহিরপুরে দীর্ঘ চার বছর পর আইনি লড়াইয়ে আদালতের রায়ে পৈতৃক সম্পত্তির জমির দখল বুঝে পেয়েছেন দুই সহোদর আবুল হাসান ও আবুল কালাম। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, শনিবার (৭ নভেম্বর) জমি পরিমাপ করে সীমানায় লাল নিশানা ও ফিতা টাঙিয়ে তাদের দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় জমিতে নির্মাণাধীন একটি হাফ বিল্ডিং ও একটি টিনশেড ঘর ভেঙে দখলমুক্ত করা হয়। দখল বুঝিয়ে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতের পক্ষে নাজির প্রভাকর সরকার, সিভিল কোর্ট কমিশনার তমিজউদদীন, বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই আরেফিন।
জানা যায়, জমির মালিক আবুল হাসান ও আবুল কালাম উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া (নোয়াপাড়া) গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তাদের এক সৎ ভাইয়ের অংশের জমি বিভিন্ন দাগে ক্রয় করেন একই উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. জাহানারা খাতুন। বিষয়টি জানতে পেরে আবুল হাসান ও আবুল কালাম জমিটি রেজিস্ট্রি না করার জন্য তাকে অনুরোধ করেন। তবে তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে একপর্যায়ে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নেন জাহানারা খাতুন। পরে পৈতৃক সম্পত্তিতে সৎ ভাইয়ের অংশ অগ্রক্রয়ের আইনগত অধিকার প্রয়োগ করতে ২০২২ সালে তাহিরপুরের সিভিল জজ আদালতে ১ নম্বর বিবিধ (অগ্রক্রয়) মামলা করেন আবুল হাসান ও আবুল কালাম। মামলায় প্রতিপক্ষ ছিলেন জাহানারা খাতুন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আবুল হাসান ও আবুল কালামের পক্ষে রায় দেন। রায়ে বিরোধপূর্ণ জমির দলিল রায় ঘোষণার ৬০ দিনের মধ্যে তাঁদের অনুকূলে সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলিল সম্পাদন না করায় পরবর্তী সময়ে আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধন করা হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২৭৩/২০২৬ নম্বর রেজিস্ট্রি কবালা সম্পাদন ও নিবন্ধিত হয়।
জমির বিবরণ অনুযায়ী, চালিয়ারঘাট মৌজার এসএ জেএল নম্বর ১৩২—এর অন্তর্ভুক্ত আরএস/বিএস খতিয়ান নম্বর ১৭—এর ৯১৫, ৯১৭, ১০১৩, ১০২৪ ও ১০২৫ নম্বর দাগে মোট ০.৩৯৮৫ একর বা ৩৯.৮৫ শতক জমি রয়েছে। পরবর্তী সময়ে জমির দখল বুঝে পেতে উচ্ছেদ মামলা দায়ের করা হলে আদালতের নির্দেশে বিরোধপূর্ণ ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ জমির দখল বুঝে পান দুই ভাই।
আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘ চার বছর আদালতে অগ্রক্রয় মামলা পরিচালনার পর পৈতৃক সম্পত্তিতে সৎ ভাইয়ের অংশটুকু ফিরে পেয়েছেন তারা। জমির মূল্য বাবদ প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা আদালতের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা রয়েছে। প্রতিপক্ষ জাহানারা খাতুন চাইলে যেকোনো সময় ওই টাকা উত্তোলন করে তাদের অন্য জায়গায় ঘর নির্মাণ করতে পারবেন।
অন্যদিকে, জাহানারা খাতুন বলেন, প্রায় ৯ বছর আগে তিনি তাদের সৎ ভাইয়ের অংশের জমি কিনেছিলেন এবং চার বছর আগে রেজিস্ট্রি করেছেন। শনিবার হঠাৎ নির্মাণাধীন হাফ বিল্ডিংসহ টিনশেড ঘর ভেঙে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন