প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:৪০
তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের পানি দ্রুত কমে যাচ্ছে। এতে এ বছর হাওরে আগাম ধান রোপণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, মৌসুমের আগেই বোরো ধান রোপণ করা হলে প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগে ফসলহানির ঝুঁকি বাড়বে এবং ধান উৎপাদন অনেক কমে যাবে। এমন শঙ্কা থেকে মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা দ্বারস্থ হন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।
কৃষকরা জানান, বিগত বছরগুলোতে ১৫ নভেম্বরের পরে হাওরে বীজ ধান বপন করা হতো। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। হাওরের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ১৫ নভেম্বরের ভেতরেই উপজেলার সবকয়টি হাওরে বীজ ধান বপন শেষ হয়ে যাবে। রোপণ কাজও আগাম শুরু হয়ে যাবে। সময়ের আগে রোপণ করলে শীতের কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি, আগাম পাহাড়ি ঢলসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতিতে মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটি উদ্যোগী হয়। কমিটির সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবীর সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যদের নিয়ে মাটিয়ান হাওরের নান্দিয়া খালটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে খালের মুখে বাঁধ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়।
পরিদর্শনের পর বাঁধটি নির্মাণের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রয়োজনীয় জিও ট্যাক্স ও বস্তা দিয়ে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও মাটিয়ান হাওরপাড়ের বড়দল গ্রামের বাসিন্দা সামায়ুন কবির বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তিনিসহ ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য জুয়েল মিয়া ও বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ ৩ জনকে দায়িত্ব দিয়ে দেড় লাখ টাকা ও প্রয়োজনীয় জিও ট্যাক্স দিয়ে শুক্রবার থেকে কাজটি শুরু করেছেন। ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই খালটিতে তারা দুই দিনে ৩০০টি বাঁশের খুঁটি গেড়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে তাদের আরও অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা অর্থাৎ সর্বমোট ২ লাখ টাকা খরচ হবে। এই অতিরিক্ত অর্থের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বাঁধটি সম্পন্ন হলে হাওরের পানি ধরে রাখা যাবে এবং কৃষকরা সঠিক সময়ে ধান রোপণ করতে পারবেন।
মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাটিয়ান হাওরের নান্দিয়া বাঁধটি গত বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের খাল হয়ে যায়। যে কারণে হাওরের পানি দ্রুত কমে যাচ্ছে। এতে হাওরে আগাম ধান রোপণ করলে কৃষকরা ফসলহানির নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়বেন।
তিনি বলেন, হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরলে ইউএনও মহোদয় নান্দিয়া খালের মুখটি বেঁধে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। এজন্য তিনি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বাঁধটি দ্রুত সম্পন্ন হলে এ বছর তারা নিরাপদে ও সঠিক সময়ে বোরো ধান চাষ করতে পারবেন। এতে ফসলহানির ঝুঁকি কমবে এবং উৎপাদন বাড়বে। হাওরপাড়ের হাজারো কৃষক পরিবার এখন এই বাঁধের দিকে তাকিয়ে আছেন।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন, মাটিয়ান হাওরের পানি দ্রুত কমে যাচ্ছে। এ মৌসুমে হাওরের পানি ধরে রাখতে উপজেলা পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে খালটি বেঁধে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থে হাওরের পানি ধরে রাখা জরুরি। সঠিক সময়ে ধান রোপণ করা গেলে উৎপাদন ভালো হবে। প্রশাসন কৃষকদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও হাওর রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন