প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৯
জামালগঞ্জে ইয়াবা দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক মুনসুর আহমদের মুক্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার বিকালে উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের ছেলাইয়া গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়ার ছেলে মুনসুর আহমদের মুক্তির দাবিতে লালবাজারে মানববন্ধন হয়। জামালগঞ্জ ইজিবাইক মালিক—চালক সমিতি ও সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় এলাকাবাসী, বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার জামালগঞ্জ থানা পুলিশ মুনসুর আহমদের অটোরিকশায় ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মুনসুরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে তারা মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
মানববন্ধনে জামালগঞ্জ ইজিবাইক মালিক—চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নয়ন মিয়া বলেন, এর আগেও এই গ্রাম থেকে একাধিক নিরপরাধ মানুষকে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মানিগাঁও গ্রামের স্বপন নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে কথা বলায় কয়েকজনকে কৌশলে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নয়ন মিয়া। ওই ব্যক্তি এর আগে বিভিন্ন মামলায় কারাভোগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নয়ন মিয়া আরও বলেন, মুনসুর আহমদ একজন দরিদ্র অটোরিকশাচালক। তিনি কখনো মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। কয়েক দিন আগে স্বপনের মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে কথা বলায় তার অটোরিকশায় ইয়াবা রেখে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মুনসুরের সুবিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
মুনসুর আহমদের স্ত্রী মমতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী একজন নিরপরাধ অটোরিকশাচালক। তিনি কখনো এ ধরনের কাজে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু স্বপন আমার স্বামীকে এভাবে ফাঁসিয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, স্বামী কারাগারে থাকায় বর্তমানে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার অটোরিকশাটিও থানার হেফাজতে রয়েছে। গাড়িটি ফেরত পেলে অন্তত ভাড়া দিয়ে হলেও আপাতত সংসার চালাতে পারতেন।
এ সময় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জামালগঞ্জ ইজিবাইক মালিক—চালক সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, বণিক সমিতির সদস্য দেলোয়ার হোসেন, অটোরিকশাচালক জিলাল হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষ।
জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, কে বা কারা তার গাড়িতে ইয়াবা রেখেছে আমরা জানি না। আমরা যার গাড়িতে পেয়েছি তাকেই আটক করেছি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন