প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:০৮
মাটিয়ান হাওরের নান্দিয়া খালে বাঁধের কাজ শেষ
মাটিয়ান হাওরের পানি ধরে রাখতে নান্দিয়া খালে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। টানা ৩ দিন কাজ করে রবিবার বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে হাওরপাড়ের হাজারো কৃষকের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আগাম ধান রোপণের শঙ্কাও অনেকটা কেটে গেছে।
এর আগে হাওরের পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। সময়ের আগে বীজতলা ও রোপণ শুরু হলে কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি ও আগাম পাহাড়ি ঢলে ফসলহানির আশঙ্কা ছিল। এ পরিস্থিতিতে মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়।
উপজেলা পরিষদ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় জিও ট্যাক্স ও বস্তা। শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করেন বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সামায়ুন কবির, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুয়েল মিয়া ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ স্থানীয়রা। ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের খালে ৩০০টি বাঁশের খুঁটি গেড়ে মাটি ও জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। কাজ সম্পন্ন করতে সর্বমোট ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকার জন্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাঁধটি গত বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে খালে পরিণত হয়েছিল। এখন বাঁধ দেওয়ায় হাওরের পানি ধরে রাখা যাবে। কৃষকরা সঠিক সময়ে বোরো ধান রোপণ করতে পারবেন। এজন্য তিনি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বাঁধের কারণে এ বছর নিরাপদে ও সঠিক সময়ে ধান চাষ করা যাবে। ফসলহানির ঝুঁকি কমবে, উৎপাদন বাড়বে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন, কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে। হাওর রক্ষায় প্রশাসন সবসময় কৃষকদের পাশে থাকবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন