প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:১৮
শাল্লায় সেচ সংকট
বোরো মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই শুকিয়ে গেছে খাল—বিল, জলাশয় ও হাওরের পানি। কোথাও কোথাও বোরো জমিতে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। এতে সেচ সংকটের আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শাল্লা উপজেলার হাজারো কৃষক। মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে। অনেক কৃষকের আশঙ্কা, দ্রুত সেচের পানির ব্যবস্থা করা না হলে এবার বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের।
গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন হাওরের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর যে সময়টাতে হাওর ও আশপাশের খাল—বিলে পর্যাপ্ত পানি থাকার কথা, এবার তার আগেই পানি শুকিয়ে গেছে। ফলে বোরো জমিতে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বিকল্প উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করতে গেলে বাড়বে উৎপাদন খরচ। কোথাও কোথাও পানির অভাবে বোরো আবাদ করাই অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও হাহাকার। সরেজমিনে উপজেলার ভান্ডাবিল, ভেড়াডহর, ভরাম হাওর, ছায়ার হাওর ও কালিয়ারকোটা হাওরের একাংশ ঘুরে দেখা গেছে, বোরো মৌসুম শুরুর আগেই অনেক কৃষিজমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। শুকিয়ে গেছে জমির মাটি। খাল—বিল ও জলাশয়েও নেই পর্যাপ্ত পানি।
.jpg)
কথা হয় ছায়ার হাওরের কৃষক শ্রীহাইল গ্রামের বাসিন্দা সুকেল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আমরা বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ব। একদিকে সার ও বীজের চড়া দাম, অন্যদিকে মৌসুম শুরুর আগেই জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। খরচের বিষয়টি তো আছেই, তার ওপর এবার ফসল ফলানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের কৃষক। এখন হাহাকার করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।
ভান্ডাবিল হাওরের কৃষক নারকিলা গ্রামের বাসিন্দা অজয় দাস বলেন, গত বছর ১০ কেয়ার জমিতে বোরো আবাদ করেছিলাম। অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় সব ফসল তলিয়ে যায়। সরকারি কোনো সহযোগিতাও পাইনি। এবার নতুন করে বিপদ দেখা দিয়েছে। কোথাও পানি নেই। জমি দেখতে গেলে স্ট্রোক করার মতো অবস্থা হয়। খাল—বিল ও ছোট নদীনালা খনন করে সরকারিভাবে সেচের ব্যবস্থা না করলে আমার মতো হাজারো কৃষক পথে বসবেন।
.jpg)
ভরাম হাওরের কৃষক ইন্দ্রজিৎ দাস বলেন, বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমিগুলো এবার মৌসুম শুরুর আগেই ফেটে গেছে। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। কৃষি কাজ এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। তার ওপর এবার সেচের জন্য দ্বিগুণ খরচ করতে হবে। কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে সেচের পানির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে খাল—বিল ও জলাশয় সংরক্ষণ এবং পুনঃখননের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় বলেন, এবছর মাঠের অবস্থা খারাপই। কৃষকদের প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে আসছি এবং আগাম পানি শুকিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমার উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে জানিয়েছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড শাল্লার দায়িত্বে থাকা শাখা কর্মকর্তা ওবায়দুল হক জানান, হাওরের পানি যা নামতে না পারে সেজন্য উপজেলার সবকটি স্লুইসগেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বোরো জমি আগাম শুকিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও আমরা ভাবছি, বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন