দুই ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী  নিয়ে পিআইসি 

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৭:৩৭

তাহিরপুরে পিআইসি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

তাহিরপুরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোফাজ্জল হোসেন এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি মাটিয়ান—শনিসহ ছোট বড় ২৩টি হাওরে ৮২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়। এরমধ্যে মাটিয়ান হাওরে ৩৯টি, শনির হাওরে ১০টি, গুরমার বর্ধীতাংশে ২৫টি, মহালিয়া হাওরে ৪টি, হালির হাওরে ২টি এবং আঙ্গারওলী হাওর ২টি। নিয়ম অনুযায়ী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে জরীপ কাজ শেষ করে ১৫ ডিসেম্বর বাধের কাজ শুরু হওয়ার কথা। ২৮শে ফেব্রুয়ারীর মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো হাওরে কাজ শুরু হয়নি। এদিকে পিআইসি কমিটিতে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে বহিরাগত অযোগ্য অদক্ষ লোকদের কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের পাটাবুকা গ্রামের জুনায়েদ মিয়া বিভিন্ন কৌশলে একাই দুইটি পিআইসি বাগিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীও নিয়েছেন একটি পিআইসি। জুনায়েদ মিয়া বর্ধিত গুরমা ৫ নম্বর পিআইসি কমিটির সভাপতি, তার আপন ছোট ভাই মুবাশ্বির ৬ নম্বর পিআইসি কমিটির সদস্য সচিব এবং তার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী নাজমা ৪ নম্বর পিআইসি কমিটির সদস্য সচিব। অন্যদিকে একই গ্রামের জিয়া উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে সুজাত ৮ নম্বর পিআইসি কমিটির সদস্য সচিব, আরেক ছেলে এনায়েত হোসেন ১১ নম্বর পিআইসি কমিটির সদস্য সচিব। স্থানীয়রা অভিযোগে বলেছেন— ৪, ৫, ৬, ৮, ১১ নম্বর পিআইসি কমিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব (এসও) কে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ দিয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন।


দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, যাদের বাঁধের কাজ করার সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতা নেই তাদেরকে পিআইসিতে রাখা হয়েছে। এ ইউনিয়নে আমার ওয়ার্ডেই বাঁধ বেশি। কিন্তু কাজ দেয়া হয়েছে অন্য যায়গার লোকজনদের।


মাটিয়ান হাওরপাড়ের কৃষক পরিবেশ কর্মী আব্দুল আমিন বলেন, এ বছর নীতিমালা না মেনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব (এসও) স্থানীয় দালালের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে লাখ টাকার বিনিময়ে প্রতিটি পিআইসি গঠন করে দিয়েছেন। যা নীতি মালা বহির্ভূত।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব (এসও) মনির হোসেন বলেন, এমন একটি অভিযোগ আমার হাতেও এসেছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নিয়ে অভিযোগকারীদের তাঁর সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন তিনি।


উপজেলা কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা পারভিন বলেন, যারাই পিআইসি পাচ্ছেন না, তারাই সকাল—বিকাল অভিযোগ দিচ্ছেন। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার