প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৭:৪৮
নির্মাণের তিন মাসের মাথায় নদীগর্ভে কাঁচাবাজার
সুনামগঞ্জ পৌরশহরে সবজির পাইকারি ও খুচরা বিক্রির বাজার ছিলো মাছ বাজারের সংলগ্ন নদীর পাড়ে। একবছর আগেও প্রতিদিন সকালে এখানে পাইকারি ও খুচরা সবজি বিক্রেতাদের হাঁকডাক থাকতো। খোলা বাজার নয়, দোকানকোটায় বেচাবিক্রি করবার জন্য ৯৫টি দোকান কোটা নির্মাণ করা হয়েছে এখানে। তিন মাসের মাথায় এসব দোকানের ২০ টি ভেঙে নদীতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভয়ে দোকানীরা এসব ঘরে আর বসেন না। গণমাধ্যম কর্মীসহ দায়িত্বশীল যাকেই পান হা—হুতাশ করে তাদেরকে বিকল্প ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। জেলা প্রশাসকের খতিয়ানের জমিতে কোনো রকম দরপত্র আহ্বান ছাড়াই করা হয়েছে ৯৫টি দোকান কোটা। প্রকৌশলীর পরামর্শও নেয়া হয়নি এই কাজে। এই দোকানকোটাগুলো নির্মাণ করেন সাইফুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ী। তিনি দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে নিয়ে দোকানগুলোর পজিশন দিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। তবে হস্তান্তরের তিন মাসের মাথায়ই ২০টি দোকান নদীর দিকে দেবে গেছে। একারণে মহাসংকটে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
আরপিননগরের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম বললেন, আমরা একেকজন আড়াই থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে দিয়েছি। যখন কাজ করা হয়েছে তখনই বলেছি, নিচে পাইলিং করে করলে টেকসই হবে। তারা আমাদের কথা শুনে নি। এখন ঘর ভেঙে নদীতে বিলীন হতে চলেছে। সংস্কার করে না দিলে আমাদের পথে বসতে হবে।
নতুনপাড়ার বাসিন্দা স্বপন কুমার দাস বললেন, মাত্র ১ মাস হলো গিয়েছি দোকানে। হঠাৎ দেখি দেয়ালে ফাটা ধরেছে। পরে কয়েকদিন আর বসি নাই দোকানে। দুইদিন আগে পুরোটাই ভেঙে গেছে। কতৃর্পক্ষ মেরামত করে না দিলে পথে বসতে হবে।
কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বললেন, মার্কেটে ভাঙন ধরেছে। ইতোমধ্যে চার থেকে পাঁচটি দোকান ভেঙে নদীতে বিলীন হবার পথে, ২০ টি দোকানঘর দেবে গেছে। ঠিকমতো নির্মাণ কাজ না হবার কারণেই এই অবস্থা হয়েছে। যারা ঘর কিনেছেন সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোকানকোঠার নির্মাতা সাইফুল ইসলাম নিজেও একজন পোলট্রি মোরগ ব্যবসায়ী। তার কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও নেই। কতৃর্পক্ষের অনুমতি নিয়ে ৯৫ টি দোকানঘর নিমার্ণ করেছেন নদীর পাড়ে। ঘরগুলো পজিশনও দিয়েছেন তিনি।
সাইফুল ইসলাম এই প্রসঙ্গে বললেন, আড়াই কোটি টাকার উপরে খরচ হয়েছে ঘরগুলো নির্মাণ করতে। অনেক মজবুত করে করা হয়েছে। নদীর পাড়ে ১৫ ফুট মাটি ফেলে ভরাটের কাজ করা হয়েছে। এখন পিলার দেবে গেছে। এতে কিছুই করার নেই আমার। কাজ করতে আমার কোন অবহেলাও ছিল না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামত করে দেওয়া হবে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল জানালেন, সরজমিনে ত্রুটি বিচ্ছুতিগুলো দেখে ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবো আমরা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন